কোনো অজুহাত দিয়ে বাঁচার উপায় নেই: সাইফ

স্পোর্টস রিপোর্টার

কোনো অজুহাত দিয়ে বাঁচার উপায় নেই: সাইফ

‘এক্সকিউজ দিতে চাই না’- উইকেট সম্পর্কে হওয়া প্রশ্নে এমনটাই বলেছিলেন সাইফ হাসান। খানিকটা ধীরগতি আর হুটহাট বাউন্সের উইকেটে নিউজিল্যান্ড সফল হয়েছে। তবে স্বাগতিক হয়েও সেই সুবিধাটুকু ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ফল, ২৪৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ বল আগে ২২১ রানে অলআউট স্বাগতিকরা। ম্যাচ হার ২৬ রানে। এ হারের পর ‘এক্সকিউজ’ না দিয়েও উইকেট যে মনমতো হয়নি সেটা স্পষ্ট ছিল সাইফ হাসানের কথায়।

বিজ্ঞাপন

বল হাতে দারুণ ছিল বাংলাদেশের শুরুটা। শরিফুল ইসলামের দারুণ বোলিংয়ের সঙ্গেও অন্যরাও ছিলেন সাবলীল। তাতে মনে হয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে অল্প রানে আটকে ম্যাচ জয়ের অর্ধেক কাজটা বল হাতেই করে রাখবে বাংলাদেশ। কিন্তু বিধিবাম! ব্যাটিংয়ে নেমে নিজেদের বানানো উইকেট বুঝতেই শেষ পুরো ম্যাচ। ফল- বাংলাদেশ থামে ২২১ রানে।

উইকেট বুঝতে খানিকটা কষ্ট হয়েছে সেটা স্পষ্ট ম্যাচশেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা সাইফ হাসানের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘উইকেট তো একটা ছিল, ঠিক আছে। একটা ধারণা ছিল কেমন হতে পারে। আজকে একটু বেশি আনইভেন হয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয় ঐ এক্সকিউজ দিয়ে আসলে বাঁচার উপায় নেই।’

‘এক্সকিউজ’ দিতে না চাওয়া সাইফ এর একটু আগেই বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় উইকেটটা প্রথম থেকে একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু ভুল সময়ে আমাদের উইকেটগুলো পড়েছে।’ চ্যালেঞ্জ কিংবা মন খারাপ যাই থাকুক উইকেট নিয়ে সাইফ যে অখুশি তা আরও স্পষ্ট হয় তার আরেকটি কথায়। সেবার তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান সিরিজে উইকেট তো আপনারা দেখেছেন ট্রু উইকেট ছিল। এখানেও উইকেট ভালো ছিল, একদম খারাপ ছিল না। কিন্তু আমরা যদি এডাপ্টটা একটু ভালোমতো করতে পারতাম…।’

উইকেট মানানসই না হওয়ায় মনক্ষুণ্ন থাকা সাইফ পরোক্ষভাবে উইকেট বুঝতে না পারায় দায়টা স্বীকারই করে নিয়েছেন। তার কথায়, ‘এটা আসলে আমাদের হাতে নেই। উইকেট একেক দিন একেক রকম হতে পারে। ব্যাপারটা হচ্ছে আমরা ওখানে (উইকেটে) গিয়ে কতটুক মানিয়ে নিতে পারছি। এটাই জরুরি।’

সাইফ আরও বলেন, ‘দিন শেষে আসলে উইকেট কেমন আচরণ করছে, কতটুকু আমি মানিয়ে নিতে পারছি, এটাই জরুরি।’

বাংলাদেশ না পারলেও উইকেটের সঙ্গে ঠিকই মানিয়ে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। অনুশীলন উইকেটের সঙ্গে ম্যাচ উইকেটের মিল কথা জানিয়ে ডিন ফক্সক্রফট বলেন, ‘অনুশীলন উইকেট দারুণ ছিল। ম্যাচের মাঝের সময়ের উইকেটের সঙ্গে দারুণ মিল ছিল। আমার মনে হয়, যে উইকেট পাবো সেখানে মানিয়ে নিতে হবে। এর জন্য আমরা কোন অভিযোগ করতে পারব না। আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি, যতটুকু সম্ভব ভালোভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়।’

তবে উইকেট যে ধীরগতির ছিল সেটা জানিয়ে ফক্সক্রফট বলেন, ‘উইকেট খানিকটা ধীরগতির ছিল। স্পিনার ও পেসারদের জন্য সমান সুযোগ ছিল। বোলিং ইউনিট হিসেবে আমরা উইকেটের আচরণ বুঝে মানিয়ে নিয়েছি।’

তার কথায় স্পষ্ট পুরো ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই। আর সেই কাজটাই করতে পারেনি বাংলাদেশ। নিজেদের মাঠে উইকেট বানিয়ে নিজেরাই গেছে বোকাবনে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন