হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকের পর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের ফিফটিতে আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে চালকের আসনে বসেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩২৯ রানের লিড নিয়েছে টাইগাররা।
তৃতীয় দিনের শুরুটাই দুর্দান্ত হয়েছে বাংলাদেশের। গত দিনের ২১১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১২ রান যোগ করতেই ৫ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। আর আফগানদের এমন ধ্বসের মূল কারিগর হাসান মাহমুদ।
শুরুটা অবশ্য করেছেন ইবাদত হোসেন। ইকরাম আলিখিলকে দিনের তৃতীয় ওভারে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান এই পেসার। ১০৩ বলে ৩২ রান করে ফেরেন আলিখিল।
পরের ওভারে হ্যাটট্রিক তুলে নেন হাসান মাহমুদ।
আফগান ইনিংসের ৮৩তম ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। শুরুটা ইসমাত আলমকে দিয়ে। হাসানের ব্যাক অব দ্য লেংথের বল নিচু হয়ে গিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়। সামলাতে না পেরে বোল্ড হন ইসমাত। পরের বলে কায়েস আহমেদকে আউট করেন উইকেটের পেছনে। এক্ষেত্রে খানিকটা কৃতিত্ব আছে উইকেটরক্ষক লিটন দাসেরও। হাসানের বলটা কায়েসের ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপের দিকে যেতে থাকলেডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ক্যাচ নেন লিটন। পরের বলে জিয়া-উর–রেহমানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন হাসান। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল গিয়ে আঘাত করত অফ স্টাম্পের ওপরের অংশে।
বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছেন হাসান। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে হ্যাটট্রিক ছিল অলক কাপালি ও সোহাগ গাজীর। টেস্ট ইতিহাসে এটি ৫০তম হ্যাটট্রিক। চলতি বছরে টেস্টে এটাই প্রথম।
৮৭তম ওভারে ইয়ামিন আহমদজাইকে আউট করে ফাইফার পূর্ণ করেন হাসান। টেস্টে এটি হাসানের চতুর্থ ফাইফার।
এক প্রান্তে উইকেটের মিছিল চললেও সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রহমত শাহ। অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি করলেন এই ব্যাটার। সব মিলিয়ে টেস্টে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি।
মোহাম্মদ সেলিমকে ফিরিয়ে আফগানদের ইনিংসের ইতি টানেন ইবাদত হোসেন। রহমত শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ১০৫ রানে।
১০৬ রানের লিড নিয়ে ব্যাটিং শুরুটা অবশ্য খুব ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ৩১ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। মোহাম্মদ সেলিমের বাউন্সারে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাদমান। খানিক পরে সাজঘরের পথ ধরেন মুমিনুল হক। ইয়ামিনের করা অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথের বলে ব্যাট চালিয়ে ক্যাচ দেন স্লিপে। তার ব্যাট থেকে আসে ৭ রান।
আগের ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাট করা তানজিদ হাসান তামিমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ফিরেছেন ৩১ রানে।
চতুর্থ উইকেটে ১৫৯ রানের জুটি গড়েন শান্ত এবং মুশফিক। দুজনেই পেয়েছেন ফিফটির দেখা। সেঞ্চুরির কাছাকাছিও গিয়েছিলেন। কিন্তু দুজনকেই ফিরতে হয়েছে আক্ষেপ নিয়ে।
জিয়া উর রহমানের শর্ট ডেলিভারি উইকেটকিপারের মাথার উপর দিয়ে স্কুপ করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন মুশফিক। ১৪৬ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। শান্ত কায়েস আহমেদের অফ স্ট্যাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন। বাংলাদেশের অধিনায়ক আউট হয়েছেন ১৯৯ বলে ৮২ রানের ইনিংস খেলে।
নাইটওয়াচম্যান হিসেবে পাঠানো হয় হাসানকে। যদিও টিকতে পারেননি তিনি। জিয়ার দারুণ এক ডেলিভারিতে লেগ বিফোর উইকেট হয়েছেন তিনি। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। ১৩ বলে ৫ রান করে অপরাজিত আছেন লিটন। মেহেদী হাসান মিরাজ রানের খাতা খোলার আগেই দিনের খেলা শেষ হয়ে গেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-3bc72a-720x405.webp)