বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি জার্মানি কি এখন কেবলই অতীতের ছায়া? টানা কয়েকটি বড় টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার পর এই চরম সত্যটি এবার খোদ মেনে নিলেন দলের প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগলসম্যান। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দীর্ঘ ১২ বছর পর নকআউট ম্যাচে নেমে ফক্সবরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে জার্মানির এই হারকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তীব্র সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়ে কোচ নাগলসম্যান অকপটে দলের বর্তমান অবস্থান স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি প্রথম পর্বের পরেই বিদায় নেন, তবে তা জার্মান ফুটবলের জন্য যথেষ্ট নয়। এটি এখন টানা তৃতীয়বারের মতো বিদায় বা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া, তাই আমরা আর প্রথম সারির দলগুলোর অংশ নই। আমি অত্যন্ত হতাশ।’ ১৯৫৪, ১৯৭৪ বা ২০১৪ সালের সেই অপরাজেয় জার্মানির লড়াকু মানসিকতা যে বর্তমান দলে অনুপস্থিত, কোচের বক্তব্যেই তা স্পষ্ট।
তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অতিরিক্ত সময়ে ভিএআরে জোনাথান টাহর হেডার বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন নাগলসম্যান। বিষয়টিকে ‘একদম একটি রসিকতা’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি পরোক্ষভাবে এই হারের পেছনে রেফারিংয়ের সিদ্ধান্তকেও দায়ী করেন।
টানা ব্যর্থতায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তাকে বরখাস্ত করার গুঞ্জন চললেও, নিজে থেকে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন নাগলসম্যান। দলের এই কঠিন সময়ে পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘ডিএফবি যদি আমাকে চায়, আমি দায়িত্ব পালন করে যাব। আজ যদি জার্মানিতে কোনো জরিপ করা হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ আমার সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলবে না। তবে আমি এমন কোনো মানুষ নই যে পরিস্থিতি দেখে পালিয়ে যাব।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নাগলসমান জানান, জার্মানিকে আবার পুরোনো ফর্মে ফেরাতে দলে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন। বিস্তারিত কিছু না জানালেও তিনি বলেন, ‘সম্ভবত আমাদের একটি বড় পরিবর্তন দরকার। ভবিষ্যতের জন্য আমাদের কিছু সমাধান খুঁজতে হবে। কিছু জিনিস পরিবর্তন করা দরকার।’ এখন দেখার বিষয়, ডিএফবি নাগলসম্যানের ওপর আস্থা রেখে দলের বড় পরিবর্তনের সুযোগ দেয়, নাকি নতুন কোনো কোচের হাতে তুলে দেয় জার্মান ফুটবলের দায়িত্ব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

