বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জার্মানির গোল বাতিলের সিদ্ধান্তটি ফুটবল বিশ্বে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বোস্টন স্টেডিয়ামে শেষ ৩২-এর এ নাটকীয় ম্যাচে ১-১ সমতায় থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত সময়ে জোনাথান তাহর করা গোলটি ভিএআর রিভিউর মাধ্যমে বাতিল করে দেয়। এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে ফ্রান্সের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার থিয়েরি অঁরি একে একটি ‘পাগলাটে’ ও ‘ভীষণ বাজে’ সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ম্যাচের ১০২ মিনিটে দুর্দান্ত এক হেডের সাহায্যে বল জালে জড়ান জার্মান ডিফেন্ডার জোনাথান তাহ। তবে রেফারি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির পরামর্শে মাঠের পাশের মনিটর দেখে গোলটি বাতিল করেন। অভিযোগ ছিল, গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে আলতো স্পর্শ করে বাধা দিয়েছিলেন আরেক জার্মান ডিফেন্ডার ভালদেমার আন্তন।
এ সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক দাবি করে থিয়েরি অঁরি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত হতাশাজনক। সম্পূর্ণ পরিষ্কারভাবে হেডে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোলটি করা হয়েছিল। গোলরক্ষকের সঙ্গে সামান্যতম স্পর্শের জন্য এমন একটি ভালো গোল বাতিল করা কোনোভাবেই যুক্তিসংগত হতে পারে না। প্রতিটি ছোটখাটো স্পর্শের জন্য যদি এভাবে শাস্তি দেওয়া হয়, তবে ডিফেন্ডারদের বক্সে চ্যালেঞ্জ করাই বন্ধ করে দেওয়া উচিত। জার্মানি এখানে পরিষ্কারভাবে অবিচারের শিকার হয়েছে। তাদের গোল ছিনতাই হয়েছে।’
অঁরি ছাড়াও রয় কিন এবং অ্যালান শিয়ারারের মতো ফুটবল পণ্ডিতরা মনে করেন, প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিল ক্রসটি বুঝতে ভুল করেছিলেন এবং ভিএআরের সুবিধা নিতে মাঠে নাটুকেপনা করেছেন।
এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মূল্য জার্মানিকে চড়া দামে দিতে হয়েছে। অতিরিক্ত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে কাই হাভার্টজ ও গোলদাতা জোনাথান তাহ পেনাল্টি মিস করলে ৪-৩ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় প্যারাগুয়ে। এর ফলে টাইব্রেকারে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও আগেভাগে বিদায় ঘটল জার্মানির। এ ঘটনাটি ফুটবল মাঠে ভিএআর প্রযুক্তির কার্যকারিতা এবং ‘স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট ভুল’সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে পুনরায় বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

