বিশ্বকাপ ফাইনালে লিওনেল মেসিকে থামানোই স্পেনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ চলতি আসরে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করা আর্জেন্টাইন অধিনায়কই আলবিসেলেস্তাদের আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি। তাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ের আগে মেসিকে ঘিরেই বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
ফাইনালের আগের সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মেসিকে কোনো একজন ফুটবলারের পক্ষে থামানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “মেসিকে একজন খেলোয়াড় দিয়ে আটকানো যায় না। তাকে থামাতে হলে পুরো দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, স্পেনের কোচিং স্টাফ আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে মেসিকে রুখতে তিনটি প্রধান কৌশল তৈরি করেছে।
প্রথম পরিকল্পনা, মেসি বল পেলেই তাকে একাধিক খেলোয়াড় দিয়ে ঘিরে ফেলা। একজন নয়, বরং সম্মিলিত চাপে রেখে তাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় না দেওয়াই লক্ষ্য স্প্যানিশদের।
দ্বিতীয় পরিকল্পনা আরও গুরুত্বপূর্ণ। স্পেন চায়, মেসির কাছে বলই যেন না পৌঁছায়। এজন্য মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারদের ওপর প্রেসিং করে পাসিং লেন বন্ধ করে দেওয়ার কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে। বল সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারলে মেসির প্রভাবও অনেকটা সীমিত করা সম্ভব বলে মনে করছে দে লা ফুয়েন্তের দল।
তৃতীয় পরিকল্পনা হলো মাঝমাঠে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং আর্জেন্টিনার অধিনায়কের জন্য কোনো ফাঁকা জায়গা না রাখা। বিশেষ করে ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝের স্পেস দ্রুত বন্ধ করে দিয়ে মেসিকে যেন ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি তৈরি করার সুযোগ না দেওয়া হয়, সেটিই স্পেনের লক্ষ্য।
এদিকে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস দাবি করেছে, স্পেনের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত আছেন কোচ লিওনেল স্কালোনিও। স্প্যানিশদের সম্ভাব্য প্রেসিং মোকাবিলায় মাঝমাঠের বিন্যাস ও বলের গতি নিয়ে ইতোমধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি।
ফলে ফাইনালে লড়াইটা শুধু মেসি বনাম স্পেন নয়; বরং দুই কোচের কৌশলগত দাবা খেলাও। একদিকে মেসির সৃজনশীলতা ও আর্জেন্টিনার অভিযোজন ক্ষমতা, অন্যদিকে স্পেনের সংগঠিত প্রেসিং ও সমন্বিত রক্ষণ। বিশ্বকাপের মঞ্চে শিরোপা নির্ধারণে এই কৌশলগত দ্বৈরথই শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

