বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙেছিল আগেই। তবু তৃতীয় স্থান নিয়ে দেশে ফেরার সুযোগ ছিল ফ্রান্সের সামনে। কিন্তু সেটিও হাতছাড়া হলো। মায়ামিতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শেষ করেছে লে ব্লুরা। আর এ পরাজয়ের মধ্য দিয়েই ফ্রান্সের ডাগআউটে ১৪ বছরের সফল অধ্যায়ের ইতি টানলেন দিদিয়ের দেশম।
শেষ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স। বিরতিতে ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধে চার গোল করে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি তারা। ম্যাচ শেষে প্রথমার্ধের এমন হতশ্রী ফুটবলের পুরো দায় নিজের কাঁধে তুলে নেন দেশম, ‘এটা একটি পরাজয়; তবে আমরা ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলাম। প্রথমার্ধে আমাদের পারফরম্যান্স ছিল অগ্রহণযোগ্য। পরে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি এবং যেসব কাজ ভালো করতে পারি, সেগুলো করেছি। ৪-৪ সমতা আনার জন্য দুটি সুযোগ পাই; কিন্তু আমরা একটু বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে পড়ি। আমরা এটাই করতে পারি; কিন্তু প্রথমার্ধে সেটা পারিনি। এটা আমারই ব্যর্থতা, কারণ প্রথমার্ধে যা করার দরকার ছিল, তা করতে পারিনি।’
প্রথম ৪৫ মিনিটে রক্ষণে একের পর এক ভুল আর মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুরোপুরি ছন্নছাড়া ছিল ফ্রান্স। তবে বিরতির পর সম্পূর্ণ বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। এমবাপ্পের নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ফরাসিরা। চার গোল শোধ করে সমতায় ফেরার সুযোগও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষদিকে আরো দুই গোল করে জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, এটাই ফ্রান্সের কোচ হিসেবে তার শেষ টুর্নামেন্ট। তাই এ বিদায়টা রাঙাতে চেয়েছিলেন শিরোপা দিয়ে। কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর সে স্বপ্ন ভেঙে যায়। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় স্থানও অর্জন করতে না পারার আক্ষেপ লুকাননি দেশম, ‘তৃতীয় হতে পারলে ভালো হতো। এখানে অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এসেছিলাম। অনেক ইতিবাচক কাজও করতে পেরেছি। স্পেনের বিপক্ষে ব্যর্থ হয়েছি এবং আমাদের বিপক্ষে কীভাবে ভালো খেলতে হয়Ñতারা সেটা জানত। ফ্রান্সের এই দলে ফুটবলীয় গুণগত মানের কোনো অভাব নেই। ফল পাওয়ার মতো যথেষ্ট প্রতিভা আমাদের ছিল।’
হতাশার মধ্যেও খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাটানো সময়কে নিজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই কোচ আরো বলেন, ‘ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকে এটা ছিল চমৎকার এক অভিযান। আট সপ্তাহ অসাধারণ ছিল।’
বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন কণ্ঠে দেশম বলেন, একটি ম্যাচ তার পুরো পথচলাকে ম্লান করতে পারে না। তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমি অসাধারণ কিছু মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছি, আবার কঠিন সময়ও দেখেছি। কিন্তু জীবন থেমে থাকে না। আমি ইতিবাচক মানুষ। সামনে কী আছে, সেটি নিয়েও আমি আশাবাদী। ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
২০১২ সালে ফ্রান্সের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশম জাতীয় দলকে ২০১৮ বিশ্বকাপ, ২০২১ নেশনস লিগের শিরোপা এবং ২০১৬ ইউরো ও ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছিলেন। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এবং কোচ হিসেবে ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নÑএসব অনন্য কীর্তি গড়া ইতিহাসের তৃতীয় ব্যক্তি তিনি। ফ্রান্সের কোচ হিসেবে ১৮৫ ম্যাচে ১২০টি জয় নিয়ে দায়িত্ব ছাড়ছেন দেশম। কিন্তু বিদায়ের দিনে পরিসংখ্যানের চেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে বিশ্বকাপে দেশের মানুষকে আনন্দ দিতে না পারার আক্ষেপ, ‘খেলাধুলার জায়গা থেকে হতাশা অবশ্যই আছে। কোটি কোটি ফরাসি মানুষকে আনন্দ দেওয়ার সুযোগ ছিল। এটা বিশ্বকাপ। এর চেয়ে সুন্দর কিছু নেই।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

