বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। তবে নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের সেই ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের রোমাঞ্চ ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ম্যাচ শেষের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ। বিশেষ করে স্প্যানিশ তরুণ তুর্কি গাভিকে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়েন্দো পারেদেসের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনাটি বিশ্ব ফুটবলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তবে এই ঘটনার পর গাভির মন্তব্য সবাইকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।
স্প্যানিশ রেডিও স্টেশন 'এল পার্তিদাসো দে কোপে' - কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গাভি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি পারেদেসের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দেখতে চান না।
গাভি তার বক্তব্যে ফুটবলীয় আক্রমণাত্মক দিক এবং মাঠের বিষয়গুলোকে মাঠেই রেখে আসার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'আমি মনে করি না (পারেদেসের) কোনো নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। আমি বুঝি শিশুদের জন্য এটি কোনো ভালো বার্তা বা ইমেজ নয়, তবে ফুটবলে এমন একটা দিকও রয়েছে যা একটু বেশি শারীরিক এবং আক্রমণাত্মক। ওই মুহূর্তে সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত হতো ম্যাচ চলাকালীনই তাকে লাল কার্ড দেখিয়ে বের করে দেওয়া—এবং গল্প ওখানেই শেষ। দিনশেষে আমি মনে করি, এই সবকিছুই ফুটবলেরই অংশ...।'
শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের বাঁশি বাজার পরপরই দুদলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। ডাগআউট ও মাঠের এই সংঘর্ষে আর্জেন্টিনার লিয়েন্দো পারেদেস, নাহুয়েল মলিনা, থিয়াগো আলমাদা এবং সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালা জড়িয়ে পড়েন।
স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন পারেদেস এবং বাধা দিতে এলে গাভিকেও ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন।
একই সময়ে মলিনা স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি এবং দানি ওলমোর সঙ্গে বিবাদে জড়ান আয়ালা। যদিও পরে রবার্তো আয়ালা নিজের আচরণের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন।
এই ঘটনার পর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি ইতোমধ্যেই কোড অব কন্ডাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একজন বিশেষ প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে। আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের জরিমানা বা মেয়াদী নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, ভুক্তভোগী খেলোয়াড় গাভির এমন উদার ও ‘স্পোর্টসম্যানশিপ’ সুলভ বক্তব্য ফিফার সিদ্ধান্তের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

