আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল দলে চূড়ান্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, আগামী ১৮ মে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন তিনি। তার আগে ৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকা জমা দেওয়া হবে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনে (সিবিএফ)।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট ধরা হচ্ছে ব্রাজিলকে। প্রতিটি পজিশনে একাধিক তারকা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ২৬ জনই সুযোগ পাবেন। ফলে স্কোয়াডে জায়গা নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।
গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগ
গোলবারের নিচে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম অ্যালিসন বেকার। বাকি জায়গাগুলোর জন্য লড়ছেন এদেরসন, বেন্তো ও হুগো সৌজা।
রক্ষণভাগে নিশ্চিত ধরা হচ্ছে মারকিনিওস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসকে। ইনজুরির কারণে এদার মিলিতাও ছিটকে গেছেন, ফলে নতুনদের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ফুল-ব্যাক ও মিডফিল্ড
ফুল-ব্যাক পজিশন এবার ব্রাজিলের দুর্বল জায়গা হতে পারে। ডানদিকে ওয়েসলি এগিয়ে থাকলেও ভ্যান্ডারসনরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। বামদিকে কাইও হেনরিকের নাম আলোচনায়।
মিডফিল্ডে অভিজ্ঞ কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারায়েস প্রায় নিশ্চিত। এছাড়া লুকাস পাকেতা ও আন্দ্রে সান্তোস কোচের পরিকল্পনায় আছেন।
আক্রমণভাগে তারকার মেলা
ফরোয়ার্ড লাইনে নিশ্চিত ধরা হচ্ছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া ও ম্যাথিউস কুনিয়াকে। এছাড়া গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি ও জোয়াও পেদ্রোও দলে জায়গা পেতে পারেন। স্ট্রাইকার পজিশনে রিচার্লিসন, এন্দরিকসহ বেশ কয়েকজনের মধ্যে লড়াই চলছে।
নেইমারকে ঘিরে অনিশ্চয়তা
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে নেইমারকে নিয়ে। ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ইনজুরি ও ফিটনেস সমস্যায় ভুগছেন তিনি। সান্তোসে ফিরে গেলেও নিয়মিত খেলতে পারছেন না। তবে বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্য তার স্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত যদি তাকে দলে না নেওয়া হয়, সেটি হবে বড় ধরনের চমক।
৪৮ দল নিয়ে হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হতে যাচ্ছে। তাই স্কোয়াড নির্বাচনকে ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা। এখন দেখার বিষয়—শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা নাকি ফর্ম, কোনটাকে বেশি গুরুত্ব দেন আনচেলত্তি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

