পরিত্যক্ত পলিথিনে তৈরি হচ্ছে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাস

পরিত্যক্ত পলিথিনে তৈরি হচ্ছে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাস
ভৈরবে পলিথিন পুড়িয়ে এভাবেই তৈরি হচ্ছে পেট্রোল ও গ্যাস। ছবি: আমার দেশ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে তৈরি হচ্ছে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও গ্যাস। দেশের পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি পলিবর্জ্য থেকে রক্ষা পাওয়ার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এলাকাবাসীসহ উপজেলা প্রশাসন।

জানা যায়, বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজ ও দেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে পলিথিন বর্জ্য। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পলিব্যাগ ও পলিপ্যাকেট অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ হওয়ায় এসব পরিত্যাগও করা যাচ্ছে না। আবার সহজে পচনশীল না হওয়ায় ব্যবহৃত পরিত্যক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক যত্রতত্র ফেলায় আমাদের চারপাশের নদী-নালা, খাল-বিলসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। উর্বরাশক্তিসহ নানাভাবে চারপাশের ভূমিকে হুমকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ হুমকি থেকে সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় এবং পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন ও গ্যাসের মতো প্রাকৃতিক সম্পদ উৎপাদনসহ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার মতো এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিত্যক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপাদন দেখতে প্রতিদিন তাই মানুষ ভিড় করছে ওই আহিল পেট্রোলিয়াম নামের নতুন ওই শিল্পকারখানায়।

কারখানার উদ্যোক্তা ইউসুফ আহমেদ গালিব জানান, ২০১৮ সালের আগস্ট মাস থেকে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করেন তিনি। থাইল্যান্ড ব্যাজ সেপকো কোং প্যাটার্ন অনুসারে এবং বাংলাদেশের এক্সেস টু ইনফরমেশন এটুআইয়ের দিকনির্দেশনায় প্রকল্পটি শুরু করেছেন। থাইল্যান্ড বর্তমানে ফিফথ জেনেরেশনে কাজ করছে। আর তিনি শুরু করেছেন প্রথম জেনারেশনে।

বর্তমানে কারখানাটিতে প্রতিদিন ১ হাজার কেজি পরিত্যক্ত পলিথিন পুড়িয়ে ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা যায়। যার মধ্যে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন ছাড়াও থাকছে গ্যাস। তবে গ্যাস বর্তমানে সংগ্রহ না করে কারখানায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এ ছাড়া ছাই বা কালো কার্বন সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা থেকে তৈরি হবে প্রিন্টারের কালি।

বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদের মান নির্ণয়ের ফলাফলে পলিথিন থেকে উৎপাদিত এ জ্বালানি তেলের মান হচ্ছে ৯৩.৫৬, যা নর্মাল জ্বালানি থেকে ১.৫৬ পার্সেন্ট জ্বালানিক্ষমতা বেশি এবং পুরোপরি লো কার্বনের জ্বালানি। এতে নর্মাল জ্বালানির চেয়ে বেশি রান করবে যানবাহন। আর এই জ্বালানি পরিবেশের জন্য সম্পূর্ণ ক্ষতিমুক্ত।

বর্তমানে বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদের মান নির্ণয়ের ভিত্তিতে পরিত্যক্ত পলিথিন বর্জ্য থেকে বাণিজ্যিকভাবে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপাদনকল্পে ভৈরব শহরের কালীপুর এলাকায় ‘আহিল পেট্রোলিয়াম লিমিটেড’নামের এ প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে পরিত্যক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক থেকে মাটি, পানি ও বায়ু দূষণের পরিমাণ হ্রাস করে জ্বালানি তেল উৎপাদনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে ত্বরান্নিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন কারখানাটির উদ্যোক্তা ইউসুফ আহমেদ গালিব ।

পলিথিনকে বাংলাদেশের জন্য সমস্যা উল্লেখ করে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ জানান, এ সমস্যা থেকে উত্তরণে এ উদ্যোগটিকে তিনি স্বাগত জানান। তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন