২৫ পাসের অনবদ্য গোলে প্রত্যাবর্তনীয় জয় দক্ষিণ কোরিয়ার

স্পোর্টস ডেস্ক

২৫ পাসের অনবদ্য গোলে প্রত্যাবর্তনীয় জয় দক্ষিণ কোরিয়ার

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে দক্ষিণ কোরিয়া। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে এক গোল হজম করার পর শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে এশিয়ার দলটি।

গুয়াদালাহারার এস্তাদিও গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার। অধিনায়ক সন হিউং-মিনের নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে চেক রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা। প্রথমার্ধে দক্ষিণ কোরিয়া একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি। সনের পাঁচটি প্রচেষ্টার মধ্যে সবচেয়ে ভালো সুযোগটি দারুণভাবে রুখে দেন চেক গোলরক্ষক মাতেই কোভার।

ম্যাচের চিত্র যখন পুরোপুরি দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণে, তখনই উল্টো গোল খেয়ে বসে তারা। ৫৯তম মিনিটে ভ্লাদিমির কুফালের লম্বা থ্রো থেকে বক্সে উঠে আসেন চেক অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেইচি। তার শক্তিশালী হেডে এগিয়ে যায় ইউরোপের প্রতিনিধিরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সেটিই ছিল ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রথম অন-টার্গেট শট।

তবে পিছিয়ে পড়ার পর ভেঙে পড়েনি দক্ষিণ কোরিয়া। বরং আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে দলটি। ৬৭তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সমতা। লি কাং-ইনের পাস থেকে বল পেয়ে গোলরক্ষককে ধোঁকা দেন হোয়াং ইন-বম। কোভার এগিয়ে আসতেই শট নেওয়ার ভান করে অসাধারণ দক্ষতায় বল তুলে দেন ফাঁকা জালে।

এই গোলটি ছিল শুধু নান্দনিকতার দিক থেকেই নয়, পরিসংখ্যানের দিক থেকেও বিশেষ। গোলের আগে দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়রা টানা ২৫টি পাস আদান-প্রদান করেছিলেন। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি যৌথভাবে পঞ্চম দীর্ঘতম পাসিং সিকোয়েন্স হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

সমতায় ফেরার পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দক্ষিণ কোরিয়া। যদিও ৭৮তম মিনিটে আবারও বিপদের মুখে পড়ে তারা। ফ্রি-কিক থেকে টমাস সউচেক বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল করে দেন রেফারি। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কোরিয়ান শিবির।

সেই স্বস্তি খুব দ্রুতই আনন্দে রূপ নেয়। ৮০তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ও হিউন-গ্যু ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন। হোয়াং ইন-বমের বাড়ানো বল থেকে কাছাকাছি দূরত্বে সহজ ফিনিশিংয়ে জালে বল পাঠিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বেসিকতাসের এই ফরোয়ার্ড।

শেষ দিকে চেক প্রজাতন্ত্র সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে দলকে রক্ষা করেন কিম সেউং-গ্যু। ৮২তম মিনিটে আদাম হ্লোজেকের কাছ থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচানোর পর যোগ করা সময়েও মিখাল সাদিলেকের শট ঠেকিয়ে দেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে গুরুত্বপূর্ণ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ কোরিয়া। এই জয়ের মাধ্যমে টানা চারটি বিশ্বকাপ আসরের মধ্যে প্রথমবারের মতো উদ্বোধনী ম্যাচে জয় পেল তারা।

এদিকে হারের পর চেক প্রজাতন্ত্র তাদের পরবর্তী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে ১৮ জুন। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। ১৯ জুন তারা লড়বে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে, যারা উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...