বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিল ফিফার

বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিল ফিফার

বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান টুর্নামেন্টগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ালেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ইউরোপ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং এশিয়ার ফুটবল সংস্থাগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণা দেন তিনি। ইনফান্তিনো স্বীকার করেন, প্রস্তাবটি ফুটবল অঙ্গনে বিভাজন তৈরি করেছে এবং সেই পরিস্থিতিতে এটি আর এগিয়ে নেওয়া ন্যায়সংগত হবে না।

বিজ্ঞাপন

এক বিবৃতিতে ফিফা সভাপতি বলেন, ‘এটি স্পষ্ট হয়েছে যে এই প্রকল্পটি বিভেদ সৃষ্টি করেছে, যা আমাদের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। তাই এই প্রস্তাব আর এগোবে না।’

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। এরপর সেই প্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘু অংশীদার হিসেবে বাইরের বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। এর বিনিময়ে ফিফার ২১১ সদস্য সংস্থাকে অতিরিক্ত উন্নয়ন তহবিল দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো।

তবে প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে আসার পরই একের পর এক বিরোধিতার মুখে পড়ে ফিফা। উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশ বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দেয়। এরপর কনকাকাফের ৪১ সদস্য সংস্থা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও উয়েফা ও কনকাকাফের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করে পরিকল্পাটিকে ‘ফুটবলের জন্য খারাপ চুক্তি’ বলে আখ্যা দেন। একই সময়ে ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরও দাবি করেন, সংস্থার অনেক কর্মকর্তাকে প্রকল্পটি সম্পর্কে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।

আগামী বছরের মার্চে মরক্কোতে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা সভাপতির নির্বাচন। এতদিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সাম্প্রতিক এই বিতর্ক ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। যদিও তিনি বলেছেন, এখন তার লক্ষ্য সব পক্ষকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে এনে বিশ্ব ফুটবলের ঐক্য ও উন্নয়নের পথ খুঁজে বের করা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন