যুদ্ধের কারণে নিজ দেশ সুদান ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে চাদে আশ্রয় নিয়েছিলেন সারাহ। শরণার্থী হিসেবে শুরু হয়েছিল নতুন জীবন। কিন্তু হার না মেনে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে এখন তিনি একটি শরণার্থী শিবিরের স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে একজন সুদানি শরণার্থীর এমন গল্প। সুদানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি পরিবার নিয়ে প্রতিবেশী দেশ চাদে পালিয়ে যান। সেখানে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়ার পর তার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—নতুন পরিবেশে কীভাবে জীবন শুরু করবেন এবং শিশুদের ভবিষ্যৎ কী হবে।
শরণার্থী শিবিরে তিনি দেখেন, বহু শিশু যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির কারণে পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত স্কুল, শিক্ষক ও শিক্ষাসামগ্রীর অভাব ছিল প্রকট। এই পরিস্থিতিতে তিনি শিশুদের পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেন।
ধীরে ধীরে তার উদ্যোগ বড় হতে থাকে। পরে তিনি শিবিরের একটি স্কুলের সঙ্গে যুক্ত হন এবং নিজের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহের কারণে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদানের যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা হাজারো পরিবারের জন্য শিক্ষা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক শিশু দীর্ঘদিন স্কুলে যেতে পারেনি। ভাষা, নতুন পরিবেশ, দারিদ্র্য এবং শিক্ষকের সংকট তাদের পড়াশোনাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
তবু প্রতিকূলতার মধ্যেও স্কুলটি শিশুদের জন্য আশার জায়গা হয়ে উঠেছে। প্রধান শিক্ষক হিসেবে মোহাম্মদ আহমেদ শুধু পাঠদান পরিচালনাই করছেন না, যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে শিশুদের আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও কাজ করছেন।
তার মতে, যুদ্ধ মানুষের ঘরবাড়ি কেড়ে নিতে পারে, কিন্তু শিক্ষা কেড়ে নেওয়া উচিত নয়। কারণ শিক্ষাই শরণার্থী শিশুদের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি।
চাদের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক সুদানি আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ শিশু ও কিশোর। ফলে খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের পাশাপাশি শিক্ষার ব্যবস্থা করাও মানবিক সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা একজন শরণার্থী থেকে শরণার্থী শিশুদের প্রধান শিক্ষক হয়ে ওঠার এই গল্প শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়। এটি সংকটের মধ্যেও শিক্ষা, আশা ও নতুন করে জীবন গড়ার এক অনুপ্রেরণার গল্প।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

