সমুদ্রে ভেসে থাকা বিশাল হিমশৈল ভেঙে ছোট টুকরো হয়ে গেলে সেগুলোর পরিচয় ও গতিপথ নির্ধারণ করা দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই জটিলতা কাটাতে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কাজে লাগাচ্ছেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা। জলবায়ু পরিবর্তন বোঝা ও ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের গবেষকেরা এই নতুন এআই টুলের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
হিমশৈল সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে গলে বিপুল পরিমাণ মিঠা পানি ছাড়ে, যা বৈশ্বিক জলবায়ু, সাগরস্রোত ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে বড় প্রভাব ফেলে। কিন্তু হিমশৈল ভেঙে হাজারো খণ্ডে বিভক্ত হলে সেগুলোর আলাদা পরিচয় নির্ধারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণ এতদিন প্রায় অসম্ভব ছিল।
এই সমস্যার সমাধানে তৈরি এআই সিস্টেমটি হিমশৈল সৃষ্টির শুরুতেই সেটির স্বতন্ত্র পরিচয় শনাক্ত করতে পারবে। এরপর স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে সমুদ্রে ভেসে থাকার পুরো সময়জুড়ে—এমনকি দশকের পর দশক ধরে—হিমশৈল ও তার ভাঙা অংশগুলোর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
বিজ্ঞানীরা জানান, হিমবাহ বা বরফস্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মুহূর্তেই এআই প্রযুক্তি হিমশৈলের আকৃতি ধারণ করে রাখে। পরবর্তী সময়ে সেগুলো ভেঙে গেলে, ধাঁধা মেলানোর মতো করে ছোট টুকরোগুলোকে মূল হিমশৈলের সঙ্গে যুক্ত করে নেয়। এর ফলে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে হিমশৈলের একটি পূর্ণাঙ্গ ‘বংশতালিকা’ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের মেশিন লার্নিং বিশেষজ্ঞ বেন ইভান্স বলেন, এই প্রযুক্তি বিজ্ঞানীদের এমন পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা দিয়েছে, যা আগে কখনো ছিল না। এতে শুধু কয়েকটি পরিচিত হিমশৈল নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার উৎস, গন্তব্য ও জলবায়ুর ওপর প্রভাব বিশ্লেষণ করা যাচ্ছে।
গবেষকদের মতে, এই এআই প্রযুক্তি জলবায়ু গবেষণার পাশাপাশি মেরু অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বাড়াতেও কাজে আসতে পারে। তারা সতর্ক করে বলেন, হিমশৈল বিচ্ছিন্ন হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অ্যান্টার্কটিকায় বরফ ক্ষয়ের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

