বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
প্রতীকী ছবি

ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারদরে। শুক্রবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার হুমকির পর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯ সেন্ট বা ০.১ শতাংশ বেড়ে ৮৭ দশমিক ১৬ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৪ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছিল। তবে চলতি সপ্তাহের হিসাবে দুই বেঞ্চমার্কের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বাড়ার পথে রয়েছে। এর আগে ব্রেন্টের দাম টানা ছয় সেশন এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম টানা পাঁচ সেশন বেড়েছিল।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ

তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান হোসেইন তাইয়েব বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।

আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স তার এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে।

হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাও তেলের দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডনক) দুটি জাহাজে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম।

সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন এবং বিশ্ববাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে।

চাহিদা কমার পূর্বাভাস

তবে তেলের দাম বৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করছে বিশ্ববাজারে চাহিদার দুর্বল পূর্বাভাস। চলতি সপ্তাহে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রেও অপরিশোধিত তেলের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাড়ে তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি তেলের মজুত বেড়েছে। বাড়তি মজুত বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি তেলের দাম বৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিচ্ছে।

কেসিএমের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, তেলের বাজারে এখন দুটি বিপরীতমুখী শক্তি কাজ করছে। একদিকে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তেলের দামকে সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে দুর্বল চাহিদার পূর্বাভাস দামকে বেশি বাড়তে দিচ্ছে না।

অর্থাৎ ইরানকে ঘিরে সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তেলের দাম বাড়াচ্ছে। বিপরীতে বিশ্ববাজারে চাহিদা কমার পূর্বাভাস এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা তেলের মজুত দাম বৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করছে।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন