কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তবে ইরান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, প্রণালিটি এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় রয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলা এবং যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আগে এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, প্রয়োজন হলে মার্কিন নৌবাহিনী দীর্ঘদিন এই অবরোধ বজায় রাখতে সক্ষম।
ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা পাল্টা দাবি করে বলেন, ইরানের অনুমতি ও তত্ত্বাবধান ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপদে হরমুজ পার হওয়ার সুযোগ নেই। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে ‘বড় ধরনের ভুল হিসাব’ বলে মন্তব্য করেছেন।
পরিবেশ দুষণের ক্ষতিপূরণ দাবি
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে তেল ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের কেশম দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলে তেলের আস্তরণ পৌঁছেছে। ইরান বলেছে, প্রাথমিক তদন্তে একটি বিদেশি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজকে এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ পুনরুদ্ধারে প্রণালি ব্যবহারকারী দেশগুলোর আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে বলেও তেহরান জানিয়েছে।
নৌপথের নিরাপত্তায় পাকিস্তানের আহ্বান
অন্যদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমদ লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা করেন। তিনি ইয়েমেনের মানবিক সংকট যাতে আঞ্চলিক সংঘাতের আড়ালে চাপা না পড়ে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন।
পাকিস্তান বলেছে, ইয়েমেনের সংকটের স্থায়ী সমাধানের একমাত্র পথ হলো সংলাপ ও ইয়েমেনিদের নেতৃত্বে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।
সূত্র: ডন
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


