পুরোনো কাগজ থেকে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব নানা উপকরণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন নতুন উদ্ভাবনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতেও এগিয়ে আসছে তরুণ প্রজন্ম। বিশেষ করে জেন-জি শিক্ষার্থীরা গবেষণা, উদ্ভাবন ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
জলবায়ু পরিবর্তন এখন বিশ্বের অন্যতম বড় সংকট। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন্যা, খরা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও দূষণের কারণে মানুষের জীবন ও অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জলবায়ু-সংক্রান্ত নতুন ধারণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে সহায়তা করা হলে স্থানীয় পর্যায়ের নানা পরিবেশগত সমস্যার কার্যকর সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
কাগজসহ বিভিন্ন বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, প্লাস্টিকের বিকল্প উপকরণ তৈরি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মতো উদ্যোগ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে জনপ্রিয় হচ্ছে। এসব উদ্যোগে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। জেন-জি প্রজন্ম প্রযুক্তির সঙ্গে বেড়ে উঠার ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও নতুন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তারা পরিবেশ সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি বাস্তবসম্মত সমাধানও খুঁজছে। বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা, স্টার্টআপ এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের শুধু সচেতন করলেই হবে না, তাদের হাতে কাজ করার সুযোগও দিতে হবে। গবেষণার জন্য অর্থায়ন, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পরীক্ষাগার সুবিধা এবং সফল উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে ক্যাম্পাস থেকেই তৈরি হতে পারে টেকসই ভবিষ্যতের কার্যকর সমাধান। কাগজের বর্জ্য থেকে নতুন পণ্য তৈরি হোক কিংবা নতুন কোনো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির উদ্ভাবন—তরুণদের হাত ধরেই জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নতুন পথ খুলতে পারে।
দ্য গ্রীন টেরী ফাউন্ডেশন (GTF), স্মার্ট ক্যাম্পাস ক্লাউড নেটওয়ার্ক (SCCN) এবং ইয়াংগো এনার্জি একটি অনন্য যৌথ উদ্যোগ শুরু করেছে। তারা একসাথে University Determined Contributions
(UDCs) তৈরি করেছে, যা NDCs (Nationally Determined Contributions)-এর অনুকরণ, এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির শিক্ষার্থীদের (Gen Z) অন্তর্ভুক্ত করতে একটি বৈশ্বিক আন্দোলন চালু করবে। Gen Z-এর অবিচল সংকল্প এবং দৃশ্যমান সম্ভাবনা এখন জলবায়ু পরিবর্তনের অস্তিত্বসংক্রান্ত সংকট মোকাবেলায় কাজে লাগানো হবে।
সূত্র: সাউথ এশিয়া মনিটর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


