মিশিগানে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন করার জন্য কয়েক কোটি ডলার ব্যয় করার কথা বিবেচনা করছে আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আইপ্যাক) । ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ফিলিস্তিনপন্থী প্রার্থী ডা. আব্দুল এল-সাইয়েদকে পরাজিত করার জন্য রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেও ব্যর্থ হওয়ার পর তারা এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই ব্যর্থতাকে ইসরাইলপন্থি লবির ক্রমবর্ধমান হতাশা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ইসরাইলের বিরোধিতা এখন মূলধারার রাজনীতিতে পরিণত হচ্ছে।
মিশিগানে আইপ্যাকের প্রধান সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি, ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট (ইউডিপি), এল-সাইয়েদকে আক্রমণ করে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে জেতাতে প্রায় ৩২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিল। এত বিপুল ব্যয়ের পরেও এল-সাইয়েদ ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন এবং আগামী নভেম্বরে তিনি রজার্সের মুখোমুখি হবেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষে ইউডিপির কাছে ৮০ মিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল সংরক্ষিত ছিল, যা তাদের আরেকটি বড় প্রচারণা চালানোর সক্ষমতা দেয়।
মিশিগানে এই ব্যর্থতা আইপ্যাকের ইতিহাসে সরাসরি ফেডারেল নির্বাচনে সবচেয়ে ব্যয়বহুল পরাজয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, আইপ্যাকের এই হস্তক্ষেপ তাদের জন্য বিপরীত ফল নিয়ে এসেছে। এল-সাইয়েদ তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা অর্থকে নিজের প্রচারের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং বিষয়টিকে মিশিগানের ভোটার বনাম ধনী দাতাদের লড়াই হিসেবে তুলে ধরেছেন যারা রাজ্যের ওপর ইসরাইলের অগ্রাধিকার চাপিয়ে দিতে চায়।
নির্বাচনের আগের জনমত জরিপগুলোতে আইপ্যাকের ভাবমূর্তি সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে
• মিশিগানের ৪৯ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ভোটার এই সংস্থার প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যেখানে মাত্র ১২ শতাংশ ইতিবাচক ধারণা রাখেন।
• ৬৪ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন যে, তারা এমন কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করার সম্ভাবনা কম যারা আইপ্যাকের কাছ থেকে অনুদান গ্রহণ করেন।
এই ফলাফল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যাপক ধসকে প্রতিফলিত করে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, ৬০ শতাংশ আমেরিকান ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন এবং ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার ৮০ শতাংশ। ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী আমেরিকানদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ এখন ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন, যেখানে ইসরাইলের প্রতি সহমর্মিতা মাত্র ২৩ শতাংশ। গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে ভোটারদের একটি বড় অংশের কাছে ইসরায়েলের ব্র্যান্ড এখন ‘রাজনৈতিকভাবে বিষাক্ত’ হয়ে উঠেছে।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


