বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় খুলনার সেন্ট জোসেফ্স উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসব। উৎসবে খুলনা মহানগরীর ৪৬টি স্কুলের ৩ হাজার ২৬৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
পুরস্কার বিতরণ উৎসবে অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) ও ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মু. বিল্লাল হোসেন খান, আর্কিটেক্ট, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অন্যতম ট্রাস্টি অধ্যাপক মুহাম্মাদ আলী নকী, খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) ইরুফা সুলতানা, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং বিজ্ঞান সংগঠক অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান, গ্রামীণফোন লিমিটেড খুলনার রিজিওনাল হেড ছানোয়ার হোসেন, সেন্ট জোসেফ্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলফ্রেড রণজিৎ মণ্ডল এবং প্রাক্তন সচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান।
স্বাগত বক্তব্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও প্রাক্তন সচিব খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান বছরব্যাপী বইপড়া কর্মসূচি সফল করতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি এই আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতার জন্য গ্রামীণফোনকে ধন্যবাদ জানান এবং আগামীতে শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিতে আরও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) ও প্রকল্প পরিচালক, দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প, মু. বিল্লাল হোসেন খান বলেন ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকার সাংস্কৃতিক চর্চা ও ক্রীড়াতে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। যখন মানুষ বইপড়া, সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকবে তখন মোবাইলের প্রতি আসক্তি কমবে’।
গ্রামীণফোন লিমিটেড খুলনার রিজিওনাল হেড ছানোয়ার হোসেন বলেন, তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মাঝে মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ সাধনের লক্ষে গত দুই দশক ধরে গ্রামীণফোন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই মহতী উদ্যোগের সহযাত্রী ও অংশীদার। আলোকিত প্রজন্ম গড়ার লক্ষে তিনি বইপড়ার পাশাপাশি অভিভাবক ও শিশু-কিশোরদের নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক বিষয়ে আরও সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ, দিনব্যাপী এই উৎসবে ৪৬টি স্কুলের মোট ৩ হাজার ২৬৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৩০ স্কুলের ২২৫৭ জন শিক্ষার্থীকে সরাসরি মঞ্চ থেকে এবং ১৬টি স্কুলের পুরস্কার সংশ্লিষ্ট স্কুলের সংগঠকের হাতে প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রাপ্তদের ২২৫৪ জন ‘শুভেচ্ছা’, ৯২৩ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ৯২ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করে। পুরস্কার প্রাপ্তদের ১১৪৬ জন ছেলে ও ২১২৩ জন মেয়ে।
এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিশু-কিশোররা নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান লাভ করবে। অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’-এ অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্য প্রদান করা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

