মামলা ধামাচাপা দিতে ২ কোটি টাকা ঘুষ দাবি, পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

মামলা ধামাচাপা দিতে ২ কোটি টাকা ঘুষ দাবি, পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

রাজস্থানে মামলা বন্ধ করে দেওয়ার বিনিময়ে ২ কোটি রুপি ঘুষ দাবির অভিযোগে পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপের (এসওজি) এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন ব্যুরো (এসিবি)। একই ঘটনায় ঘুষের টাকা গ্রহণের সময় এক মধ্যস্থতাকারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার রাজস্থান এসিবি কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা হলেন এসওজির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকেশ কুমার সোনি। তিনি উদয়পুরে কর্মরত ছিলেন। তার হয়ে ঘুষের টাকা গ্রহণের অভিযোগে সাজ্জন কুমার নামে এক মধ্যস্থতাকে এর আগের দিন হাতেনাতে আটক করে এসিবি।

অভিযোগ অনুযায়ী, উদয়পুর মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের ২৭২ প্লট সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় ‘ক্লোজার রিপোর্ট’ দেওয়ার পাশাপাশি জব্দ করা মালামাল ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ২ কোটি রুপি দাবি করা হয়েছিল। এই অর্থ মুকেশ সোনির হয়ে সাজ্জন কুমার গ্রহণ করছিলেন বলে দাবি করেছে দুর্নীতি দমন ব্যুরো।

মধ্যস্থতাকে গ্রেপ্তারের পর মুকেশ সোনির ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়। পরে বালতরা জেলার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। আদালত দুজনকেই তিন দিনের হেফাজতে পাঠিয়েছেন।

এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন আইনের ৭ ও ৭এ ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬১(২) ধারায় মামলা করার কথা জানিয়েছে এসিবি।

মুকেশ সোনির গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে ওঠা পুরোনো অভিযোগগুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে ৩৫ বছর বয়সী প্রভাষক মনোহর লাল ভাদুর আত্মহত্যার ঘটনাও রয়েছে। চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি জয়পুরের অর্জুন নগর ফটকের কাছে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ।

২০২১ সালে ইতিহাসের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মনোহর নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে পরে সাময়িক বরখাস্ত হন। তার কথিত আত্মহত্যার নোটে মুকেশ সোনির বিরুদ্ধে তাকে হয়রানি ও অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

ওই নোটে মনোহর দাবি করেন, আজমের এসওজি শাখায় দায়ের করা একটি মামলায় তার নাম এফআইআরে ছিল না। এমনকি সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষক গ্রেপ্তার হওয়ার পর যে চার্জশিট দেওয়া হয়, সেখানেও তার নাম ছিল না। তবে তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মুকেশ সোনি কয়েকজন আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার পরিচয়, আর্থিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মনোহরের আরো অভিযোগ ছিল, বদলি হওয়ার পর মুকেশ সোনি তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা শ্যামসুন্দর বিষ্ণোইকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে তাকে মামলায় জড়ানোর জন্য চাপ দেন। তাকে আরো কয়েকটি মামলায় ফাঁসানোর এবং ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন কাজ করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন মনোহর।

তার অভিযোগের ভিত্তিতে সে সময় এসওজির পক্ষ থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও কয়েক মাস পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা যায়।

এ ছাড়া আজমেরে মাদক চোরাচালান-সংক্রান্ত কয়েকটি মামলার তদন্ত দুর্বল করে আসামিদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল মুকেশ সোনির বিরুদ্ধে। আজমের সাউথের সার্কেল অফিসার (সিও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার বিরুদ্ধে তদন্ত সঠিকভাবে না করার অভিযোগ ওঠে।

তদন্তে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসার পর ২০২২ সালে রাজস্থান হাইকোর্ট মুকেশ সোনিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। এবার ২ কোটি রুপি ঘুষের অভিযোগে তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুরোনো এসব অভিযোগও ফের সামনে এসেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন