ইসরাইলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির সংসদ সদস্য আরিয়েল কেলনার তুরস্ককে “শত্রু রাষ্ট্র” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইসরাইলি রেডিও গালেই ইসরাইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেলনার বলেন, “সব দিক থেকেই তুরস্ক একটি শত্রু রাষ্ট্র।” তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে “একজন স্বৈরশাসক” বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, এরদোয়ান “ইসলামি খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।”
কেলনার আরও বলেন, “তিনি অত্যন্ত বিপজ্জনক একজন ব্যক্তি, যিনি ইসরাইলকে গভীরভাবে ঘৃণা করেন।” একই সঙ্গে তিনি ইসরাইল ও পশ্চিমা দেশগুলোকে এরদোয়ানকে একটি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
এর আগে মঙ্গলবার এরদোয়ান বলেছিলেন, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরাইলের হামলা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা এখন তুরস্কের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইলের “আগ্রাসন” শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
এরদোয়ান বলেন, “ইসরাইলকে থামাতে হবে। এটি মানবতার দায়িত্ব।”
জবাবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এরদোয়ানকে “ইহুদিবিদ্বেষী স্বৈরশাসক” বলে অভিহিত করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরদোয়ান সম্পর্কে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তিনি আমার খুব ভালো বন্ধু। আমরা একসঙ্গে খুব ভালোভাবে কাজ করেছি। আমি তাকে অনেক পছন্দ করি।”
গাজা, ইরান ও লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের অন্যতম কড়া সমালোচক হিসেবে তুরস্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। ২০২৪ সালের মে মাসে আঙ্কারা ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যা মামলায় যোগ দেয়।
তবে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার পরও তৃতীয় দেশের মাধ্যমে তুরস্ক থেকে ইসরাইলে পণ্য রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাকু-তিবলিসি-জেইহান (বিটিসি) পাইপলাইনের মাধ্যমে আজারবাইজানের তেলও তুরস্কের বন্দর হয়ে ইসরাইলে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধ, সিরিয়ার ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি ইসরাইলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহারও তুরস্ককে “শত্রু রাষ্ট্র” হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “তুরস্ক যদি ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পথ বেছে নেয়, তাহলে তাকে বড় মূল্য দিতে হবে। ইসরাইল নিজেকে রক্ষা করতে জানে এবং যারা তাকে আঘাত করে তাদের জবাব দিতেও সক্ষম।”
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


