গত মাসের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৬ বছর বয়সি ইরানি যুবক এরফান সোলতানিকে শনিবার জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তার আইনজীবী ও মানবাধিকার সংস্থা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এরফান সোলতানিকে ৮ জানুয়ারি তেহরানের পশ্চিমে অবস্থিত ফারদিস শহরে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকার ব্যাপকভাবে দমন-পীড়ন শুরু করে। নরওয়েভিত্তিক কুর্দি মানবাধিকার সংস্থা হেঙ্গাওয়ে জানায়, গ্রেপ্তারের পর কর্তৃপক্ষ তার পরিবারকে জানিয়েছিল যে কয়েক দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতে পারে। তবে ইরানের বিচার বিভাগ পরবর্তীতে জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে শুধু কারাদণ্ডের মেয়াদ সম্পর্কিত নিরাপত্তা ইস্যুতে অভিযোগ রয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি।
এরফান সোলতানির আইনজীবী আমির মুসাখানি জানিয়েছেন, শনিবার তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার মোবাইল ফোনসহ সব ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। জামানতের পরিমাণ ছিল ২ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ১২,৬০০ ডলার)।
সোলতানির গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের খবর বিশ্বজুড়ে প্রচারিত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও সতর্ক করে বলেছেন, কোনো আক্রমণ আঞ্চলিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
জানুয়ারিতে ইরান সরকার বিদেশি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনের ওপর ‘বানোয়াট সংবাদ’ আখ্যা দিয়েছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ডের কোনো পরিকল্পনা নেই।
মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা জানায়, ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতার সময় ৬,৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, আর ১৭,০০০ জনের মৃত্যুর খবর তদন্তাধীন। নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR) জানিয়েছে, চূড়ান্ত সংখ্যা ২৫,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর এই ব্যাপক দমন-পীড়ন আগে কখনো দেখেননি। খামেনি মন্তব্য করেছেন, বিক্ষোভকারীরা পুলিশ, আইআরজিসি, ব্যাংক ও মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

