গাজায় ৭ অক্টোবরের হামলার পর এবং সেখানে ইসরাইলের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে কোনো পক্ষই স্পষ্ট বিজয়ী হতে পারেনি। ডানপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত এই নির্বাচনের ফলাফলে দেশটির সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইসরাইলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী শিবির—কেউই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি; নজিরবিহীন সাফল্য ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর। দেখা দিয়েছে সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ভোটার অংশ নেন। তবে সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোটও এককভাবে সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন পায়নি।
এদিকে, ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো নির্বাচনে নজিরবিহীন সাফল্য পেয়েছে। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নেতানিয়াহু বরাবরই আরব নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটগুলোর সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। তবে তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী জোট কি আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে?
নাকি গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলা অব্যাহত থাকায় এ ধরনের রাজনৈতিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়বে?
নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে এখন ইসরাইলের রাজনীতিতে এই প্রশ্নগুলোই সামনে এসেছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে দলগুলোকে জোট ও সমঝোতার পথ খুঁজতে হতে পারে। তবে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা এবং গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি এ প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

