চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘ওপেক প্লাস’ জোটের সাতটি সদস্য দেশ। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থায়িত্ব বজায় রাখতে তারা এই যৌথ পদক্ষেপে সম্মত হয়েছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে জোটের সাত সদস্য দেশ—সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমান এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, বাজার স্থিতিশীল রাখার সমন্বিত প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই উৎপাদন কোটা বাড়ানো হচ্ছে।
সেপ্টেম্বরের এই বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালে ঘোষিত প্রতিদিন ১৬ দশমিক ৫ লাখ ব্যারেল সরবরাহ কমানোর চুক্তিটি পুরোপুরি বাতিল হলো। ধাপে ধাপে তেল সরবরাহ কমানোর ওই সিদ্ধান্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতও (ইউএই) শরিক ছিল। তবে চলতি বছরের মে মাসে দেশটি ওপেক জোট ছেড়ে বেরিয়ে যায়।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘রাইস্টাড এনার্জি’র জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হোর্হে লিওন বলেন, ‘ওপেক প্লাস তাদের স্বেচ্ছাসেবী সরবরাহ কাটের ইতি টেনেছে। পরবর্তীতে রফতানি প্রবাহ স্বাভাবিক হলে বাজারে অতিরিক্ত তেলের যে উদ্বৃত্ত তৈরি হতে পারে, তা সামাল দেওয়াই এখন তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।’
তবে এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রভাব নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন লিওন। তিনি জানান, কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে এখনো কড়াকড়ি ও বাধা রয়েছে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে বাজারে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে সার্বিক রফতানি চলাচল স্বাভাবিক হলে এই সিদ্ধান্তের আসল প্রভাব বাজারে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

