সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন শিশু ডিজিটাল সুরক্ষা আইন (সিডিএস আইন) কার্যকর হওয়ায় এখন থেকে সন্তানদের অনলাইন কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা পিতামাতার জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তাকে কেবল পরামর্শের বিষয় থেকে সরাসরি আইনি দায়িত্বে রূপ দেওয়া হয়েছে।
সিডিএস আইন অনুযায়ী, ক্ষতিকারক অনলাইন কনটেন্ট, অতিরিক্ত ডিজিটাল ব্যবহার এবং শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এতে পিতামাতা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সেবা প্রদানকারীদের ওপর স্পষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাইবারসিকিউরিটি কাউন্সিলের তথ্য অনুসারে, আট থেকে ১২ বছর বয়সী ৭২ শতাংশ শিশু প্রতিদিন স্মার্টফোন ব্যবহার করে , এবং মাত্র ৪৩ শতাংশ অভিভাবক নিয়মিত তাদের সন্তানদের অনলাইন কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করেন ।
আইনটি শুধু সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, বরং বিদেশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য—যদি সেগুলো আমিরাতের শিশু ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে সেবা দেয়। ফলে সোশ্যাল মিডিয়া, গেমিং প্ল্যাটফর্ম, অ্যাপ ও ওয়েবসাইটগুলোকে তাদের সদর দপ্তর যেখানেই থাকুক না কেন, এই আইন মানতে হবে।
আইনের আওতায় বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থা, কনটেন্ট ফিল্টারিং, পিতামাতার নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞ মেরিনা এল হাচেম বলেন, শিশুদের ডিজিটাল কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ, বয়স-অনুপযুক্ত অ্যাকাউন্ট অনুমোদন না করা, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং ক্ষতিকারক বা অশ্লীল কনটেন্ট দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো এখন পিতামাতার আইনগত দায়িত্ব।
সিডিএস আইন পিতামাতার ভূমিকা নিয়ে একটি মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা অবহেলা করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
সূত্র: গালফ নিউজ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


২০ বিলিয়ন ডলারের বন্ড বিক্রি, চীনকেও ছাড়াল সৌদি আরব
গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা প্রায় ৩০০