গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ আসন্ন নির্বাচনে দেশটির রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, ভূখণ্ড দখল ও তাদের উচ্ছেদের পক্ষে ইসরাইলের রাজনীতিতে সমর্থন বাড়ছে। একসময় কট্টর ডানপন্থিদের অবস্থান হিসেবে পরিচিত এসব দাবি এখন মূলধারার রাজনীতিতেও জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রধান ইস্যু করছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজের নেতৃত্বকেই অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরছেন তিনি।
নির্বাচনের এক মাস আগে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর নেতানিয়াহু দাবি করেন, ভোটের আগে ইসরাইলের শত্রুরা দেশটিতে হামলার ষড়যন্ত্র করছে। এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি। এরপর গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেখানে ১০০ জনের বেশি ‘সন্ত্রাসী’কে হত্যা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে রেখে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চাইছেন নেতানিয়াহু। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং জিম্মিদের দ্রুত মুক্ত করতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা রয়েছে। তবে ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তিনিই সবচেয়ে যোগ্য—এমন ধারণা ভোটারদের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন তিনি।
নেতানিয়াহুর ওই বক্তব্যের পরদিন দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে গুরুতর ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, ককপিটে সহকারী পাইলট কুড়াল দিয়ে পাইলটের ওপর হামলা চালান। বিমানটি প্রায় দুর্ঘটনায় পড়েছিল। ঘটনাটিকে নিজের নেতৃত্বের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেন নেতানিয়াহু।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর এটিই ইসরাইলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। ওই হামলায় ইসরাইলে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হয়েছিলেন। এর পর গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর সামনে কঠিন লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের পক্ষে কট্টর অবস্থান
গাজা যুদ্ধের তিন বছরে ইসরাইলের রাজনীতিতে ডানপন্থীদের প্রভাব আরো বেড়েছে। এর স্পষ্ট উদাহরণ অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ। ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে বর্ণবাদী বক্তব্য ও নীতির জন্য পরিচিত এই কট্টর ডানপন্থি নেতার ওপর পশ্চিমা কয়েকটি দেশ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
গত মাসের শেষ দিকে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটকে স্মোতরিচ বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সেনাবাহিনীর ‘যুদ্ধে যাওয়া’ উচিত এবং সেখানে ‘গাজায় যা করেছি, তা-ই করা’ উচিত।
এর দুই সপ্তাহেরও কম সময় পর তার নির্বাচনী মিত্র মোশে ফেইগলিন আরো কঠোর বক্তব্য দেন। জেরুজালেম পোস্টকে তিনি বলেন, ‘শত্রু গাজা, হামাস নয়।’ নির্বাচনের পর গাজা দখল করে নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রসঙ্গ টেনে ফেইগলিন বলেন, ‘আগামীকাল গাজায় যে শিশুর জন্ম হবে, সেও ঠিক একই কাজ করবে।’
ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ নাজ্জারের মতে, এসব বক্তব্য বিচ্ছিন্ন মন্তব্য নয়; বরং ক্ষমতায় যেতে চাওয়া রাজনীতিকদের নির্বাচনী বার্তা। এতে ফিলিস্তিনিদের অধিকারসম্পন্ন জনগোষ্ঠী হিসেবে না দেখে নিরাপত্তা ও জনসংখ্যার সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তাঁদের উচ্ছেদ, দখল কিংবা ধ্বংস করার পক্ষে জনসমর্থন তৈরির চেষ্টা চলছে।
নাজ্জার বলেন, আসন্ন নির্বাচন এমন প্রতিযোগিতায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের জীবন রক্ষার প্রশ্ন নয়, বরং কে তাদের আরো আগ্রাসীভাবে নিশ্চিহ্ন করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন, সেটিই মুখ্য হয়ে উঠতে পারে।
ডানপন্থি রাজনীতির বিস্তার
লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তাবিশ্লেষক অ্যারন ব্রেগম্যান বলেন, ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডানপন্থার প্রতি ঝোঁক বেড়েছে। তবে এ প্রবণতার শুরু আরও কয়েক দশক আগে।
আল-জাজিরাকে ব্রেগম্যান বলেন, ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধের পর ইসরাইলের রাজনীতিতে ডানপন্থার দিকে ঝোঁক শুরু হয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর তা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।
২০২২ সালে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে গঠিত সরকারটি ছিল ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থি। সেই সরকারের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও কট্টর অবস্থানের জন্য পরিচিত। বর্ণবাদে উসকানি দেওয়া এবং একটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থনের দায়ে অতীতে দণ্ডিত হয়েছিলেন তিনি।
ব্রেগম্যানের মতে, নেতানিয়াহুর বড় ভুলগুলোর একটি ছিল বেন-গভির ও স্মোতরিচের মতো নেতাদের জোট সরকারে জায়গা দেওয়া। এর মাধ্যমে তিনি তাদের ইসরাইলের রাজনীতিতে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বেন-গভির এখন পরবর্তী প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার আশাও করছেন।
ব্রেগম্যানের ভাষায়, ‘এটা পাগলামি। কিন্তু সমসাময়িক ইসরাইল এখন এমনই।’
নির্বাচনে অংশ নেওয়া একাধিক দল গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এসব দলের মধ্যে ক্ষমতাসীন জোটের শরিক এবং বিরোধী পক্ষের দলও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইসরাইলের রাজনীতিতে ডানপন্থার বিস্তারের বড় উদাহরণ।
প্যালথিংক ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের পরিচালক ওমর বাদ্দার বলেন, নির্বাচনের আগে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে গাজায় হামলা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একধরনের ঐকমত্য দেখা যাচ্ছে। গত বছরের যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
বাদ্দারের মতে, ভোট বাড়াতে নেতারা নিরাপত্তার হুমকিকে কাজে লাগাচ্ছেন। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা তত বাড়ছে।
তার ভাষায়, ‘যিনি বেশি কট্টর, তার বেশি ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
ইসরাইলের ভেতরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক এহাব জাবারিনের মতে, ইসরাইলের বর্তমান রাজনীতিতে ডানপন্থি হওয়ার অর্থ ফিলিস্তিনিদের জাতীয় অধিকার, নিরাপত্তা ও ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া। একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি সন্দেহ, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক নিয়ন্ত্রণের প্রতি সমর্থন এবং ইহুদি সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ধারণা এখন ইসরাইলি রাজনীতির বড় অংশে প্রতিষ্ঠিত।
নির্বাচনী প্রক্রিয়াতেও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। গাজা যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্যের কারণে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিক ও রাজনীতিক সামি আবু শাহাদেহকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে। অথচ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংস বক্তব্য দেওয়া কট্টর ডানপন্থি নেতাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে।
নিরাপত্তার প্রশ্নে এখনো ভরসা নেতানিয়াহু
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে ইসরাইলিদের মধ্যে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। গত মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, হামাসের সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান আব্বাস কামেল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান তাকে সতর্ক করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
নেতানিয়াহুর দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এ তথ্য তুলে ধরে তাঁকে দেশ পরিচালনার জন্য ‘অযোগ্য’ বলেছেন। তবে নেতানিয়াহু আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। এসব প্রতিবেদন জনমত জরিপে তাঁর অবস্থানে বড় প্রভাব ফেলেছে বলেও মনে হচ্ছে না।
তেল আবিবভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইসরাইল-ফিলিস্তিন বিশ্লেষক মাইরাভ জন্সজেইন বলেন, ৭ অক্টোবরের ঘটনা ইসরাইলিদের নিরাপত্তাবোধে গভীর আঘাত হেনেছে। তবে নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট ক্ষমতায় আসার পর বিচারব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের বিতর্কিত উদ্যোগের কারণে সরকারের প্রতি জনআস্থা আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
তারপরও নিরাপত্তার প্রশ্নে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন রয়েছে। জন্সজেইন আল-জাজিরাকে বলেন, ইসরাইলিরা এখনো সাধারণভাবে নেতানিয়াহুকেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপযুক্ত নেতা মনে করেন। তারা তার বিকল্প কাউকে স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছেন না।
ইসরাইলি ইনস্টিটিউট ফর রিজিওনাল ফরেন পলিসিজের মিতভিমের গত জুনের এক জরিপে দেখা যায়, দেশটির জনগণ সামরিক ও নিরাপত্তাভিত্তিক সমাধানকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন প্রশ্নের সমাধান এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারত্বের অবসানের বিরোধিতা করে। তবে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এবং দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ক্লান্তি বাড়ছে ইসরাইলি সমাজে। গত কয়েক বছরে ছয়টি যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে ইসরাইলি সেনাদের। এর প্রভাব পড়ছে তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে প্রায় ৩০ হাজার সেনা ও নিরাপত্তাকর্মী মানসিক আঘাতের শিকার হয়েছেন। গত তিন বছরে মন্ত্রণালয়ের পুনর্বাসন বিভাগের বাজেট ৮৮ শতাংশ বেড়ে ১০ বিলিয়ন শেকেলে দাঁড়িয়েছে। এর বড় অংশ মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা ও যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিক চাপের চিকিৎসায় ব্যয় হচ্ছে।
‘বৃহত্তর ইসরাইল’ ভাবনা, পেছনে দুই রাষ্ট্র সমাধান
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরাইলের নেতারা ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ প্রতিষ্ঠার ধারণা নিয়ে আরো প্রকাশ্যে কথা বলছেন। এই ধারণার পক্ষে বাইবেলের জেনেসিস ১৫:১৮-২১ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি ও সিরীয় ভূখণ্ড দখল করে আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে আসছে ইসরাইল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়া ও লেবাননেও আরও ভূখণ্ড দখল করেছে দেশটি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ নাজ্জারের মতে, নির্বাচনী প্রচারে ফিলিস্তিনিদের যেভাবে অমানবিক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, তাতে গাজার বিপর্যয়কে কোনো অপরাধ বা জবাবদিহির বিষয় হিসেবে নয়, বরং অন্যত্রও পুনরাবৃত্তি করার মতো একটি নমুনা হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
দক্ষিণ লেবাননে প্রায় প্রতিদিন হামলা চালানোর পাশাপাশি বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে রেখেছে ইসরাইল। সেখানকার বাসিন্দারা আল-জাজিরাকে বলেছেন, নির্বাচনে নেতানিয়াহু পরাজিত হলেও পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হবে বলে তাঁরা মনে করেন না।
নেতানিয়াহুর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট ইয়াশার পার্টির প্রধান এবং ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান। তিনি ‘দাহিয়েহ ডকট্রিন’-এর প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত। ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধের পর এই নীতির বিকাশ ঘটে। এতে শত্রুপক্ষকে নিবৃত্ত করতে বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধেও ব্যাপক সামরিক শক্তি প্রয়োগের কথা বলা হয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে, বিশেষ করে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে, এই নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে।
আইজেনকোটও সামরিক শক্তি প্রয়োগের পক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বৈরুতে সামরিক অভিযান বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করার অভিযোগ করেছেন। লেবাননের যেকোনো স্থানে হিজবুল্লাহকে আক্রমণের সুযোগ সেনাবাহিনীর থাকা উচিত বলেও তিনি দাবি করেছেন।
জন্সজেইনের মতে, ৭ অক্টোবরের ঘটনার ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে না পারা ইসরাইলিদের কাছে আইজেনকোট নিরাপত্তার প্রশ্নে বিকল্প নেতা হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারেন। ইসরাইলিরা বিশ্বকে নিজেদের প্রতি বৈরী হিসেবে দেখছেন।
তাদের ধারণা, ৭ অক্টোবর তারা কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন, তা বিশ্ব বুঝতে পারেনি। এ কারণেই তারা লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় নিরাপত্তাবলয় তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।
এ পরিস্থিতিতে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান কার্যত আলোচনার বাইরে চলে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। অথচ ৩০ বছরেরও বেশি আগে অসলো চুক্তির মাধ্যমে এ ধারণার ভিত্তিতে আলোচনা শুরু হয়েছিল যে, ইসরাইলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই শান্তির পথ তৈরি করতে পারে।
১৯৯৩ সালে অসলো প্রক্রিয়া শুরুর পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার থেকে বেড়ে ৭ লাখ ছাড়িয়েছে। এসব বসতি পশ্চিম তীরের এমন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, যেগুলো একটি সংলগ্ন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন।
ব্রেগম্যান বলেন, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ধারণা বর্তমানে অপ্রাসঙ্গিক। আগামী এক বা দুই দশক, এমনকি তারও বেশি সময় এ অবস্থা থাকতে পারে। ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর কোনো ইসরাইলি নেতার পক্ষে জনগণের কাছে এ সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া কঠিন।
তার মতে, আন্তর্জাতিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লে—বিশেষ করে ইসরাইলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে—এবং ফিলিস্তিনিরা অহিংস গণঅভ্যুত্থান বা ইন্তিফাদা শুরু করলে বিষয়টি আবার গুরুত্ব পেতে পারে।
জন্সজেইন বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সরাসরি বিরোধিতা এখন ইসরাইলের রাজনীতিতে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। একাধিক দল এ ধরনের অবস্থান সমর্থন করে। অথচ ইসরাইলের ইহুদি জায়নবাদী দলগুলোর মধ্যে একটিও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বা ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচন পরিবর্তনের দাবির চেয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর জোরালো হয়ে ওঠা উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে আরো সুসংহত করার প্রতিযোগিতায় পরিণত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। নিরাপত্তাহীনতার ভয়কে পুঁজি করে আরো সামরিক শক্তি প্রয়োগ ও সীমান্ত সম্প্রসারণের প্রবণতা বাড়ছে। ফলে নির্বাচনে সরকার বদল হলেও ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলের নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

