যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা চলছে। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত নীতিরও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
কর্নেলের ঘটনায় সাত পুরুষ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসগুলোতে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানির বৃহত্তর সমস্যার দিকটি সামনে এনেছে। ট্রাম্পের নীতিগত অবস্থান এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে নারীবিদ্বেষী আচরণের জন্য দায়মুক্তির প্রবণতা বাড়তে পারে।
কর্নেলের ঘটনাটি ২০২৪ সালের। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভ্রাতৃসংঘের (ফ্র্যাটারনিটি) সদস্যদের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই নারী পরে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। ঘটনার তদন্ত নতুন করে শুরু হয়েছে।
এ ঘটনায় নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগ কীভাবে তদন্ত করে, সে বিষয়ে স্বাধীন পর্যালোচনার দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল স্যালি ইয়েটস।
কর্নেলের ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মোকাবিলায় সরকারের নীতিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি সাবেক ট্রাম্প প্রশাসনের সময় চালু হওয়া টাইটেল-৯-এর নিয়ম পুনর্বহাল করেছে। এতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরাসরি শুনানি ও অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের পক্ষে প্রশ্ন করার সুযোগসহ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।
এর আগে বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের প্রশাসন যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে নীতিমালা করেছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এসব নীতির কিছু পরিবর্তন করে অভিযুক্তদের যথাযথ প্রক্রিয়াগত অধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়। পরবর্তী সময়ে বাইডেন প্রশাসন আবার পরিবর্তন আনতে চাইলেও আদালতের সিদ্ধান্তে তা বাধাগ্রস্ত হয়।
বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তের নিয়ম বারবার বদলানোয় দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কংগ্রেসের মাধ্যমে স্থায়ী আইন করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। তারা অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং টাইটেল-৯-এর আওতায় দ্রুত প্রক্রিয়া শুরু করেছিল।
কর্নেলের ঘটনা শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসগুলোতে নারীর নিরাপত্তা, যৌন সহিংসতা এবং নারীবিদ্বেষের সংস্কৃতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় শুধু আইনগত ব্যবস্থা নয়, নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও সামাজিক অবস্থান নিশ্চিত করাও জরুরি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

