দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ পরবর্তী সিরিয়া পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ৬.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে অনুষ্ঠিত এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। খবর রয়টার্সের।
সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী জানান, আমার এই সফরের নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ বিন সালমান। এটি প্রমাণ করে যে, ভ্রাতৃপ্রতিম সিরিয়ার পাশে দৃঢ়ভাবে আছে সৌদি আরব।
আল-ফালিহ জানান, সম্মেলনের সময় মোট ৪৭টি চুক্তি সই হবে এবং এতে অংশ নিচ্ছে ১০০টিরও বেশি কোম্পানি। এ ছাড়া, সম্মেলনে সৌদি-সিরিয়া ব্যবসায়ী পরিষদ গঠনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়।
এই সম্মেলনটি মূলত জুন মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ইরান-ইসরাইল সংঘাতের কারণে তা স্থগিত রাখা হয়েছিল।
বাশার আল-আসাদ সরকার ডিসেম্বরে পতনের পর শারার সরকার ক্ষমতায় আসে। শুরু থেকেই সৌদি আরব এই সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।
এই বিনিয়োগকে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের প্রতি সৌদি আরবের দৃঢ় সমর্থনের প্রতীক হিসেবে দেখছে বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ফের গোত্রীয় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে, যার প্রেক্ষাপটে এই বিনিয়োগ শারার প্রশাসনের জন্য বড় সহায়তা।
এদিকে উপসাগরীয় দেশ এবং তুরস্কের অনেক কোম্পানি সিরিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা, রাস্তাঘাট, বন্দর এবং অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এরই মধ্যে সিরিয়া কাতারের সঙ্গে ৭ বিলিয়ন ডলারের বিদ্যুৎ চুক্তি ও আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের বন্দর উন্নয়ন চুক্তি করেছে। এপ্রিল মাসে সৌদি আরব ও কাতার মিলে সিরিয়ার বিশ্ব ব্যাংকের বকেয়া ঋণ পরিশোধের ঘোষণা দেয়, যার ফলে দেশটি নতুন করে আন্তর্জাতিক ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। মার্কিন জ্বালানি সংস্থাগুলিও দেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করতে প্রস্তুত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

