মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান হবে বলে যে দাবি করেছেন। তবে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যকে বাস্তবসম্মত কোনো সময়সীমার চেয়ে বরং একটি প্রত্যাশা বা আশার কথাই বেশি বলে মনে করছেন দ্য মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো অ্যালেক্স ভাতানকা।
আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভাতানকা বলেন, আমার নিজের প্রতিক্রিয়া—এবং আমাদের কাছে আসা অন্যান্য প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করলে—সব মিলিয়ে বিষয়টি আমাদের হতভম্ব বা বিভ্রান্ত করে তুলেছে। তার প্রশ্ন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আসলে কী বোঝাতে চাইছেন?
ভাতানকার মতে, ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করছে—এমন ধারণার কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া কঠিন।
তিনি বলেন, ইরান আসলে এমন কিছু চায় বা এমন কিছুর অপেক্ষায় আছে যা দেখে তারা কূটনৈতিকভাবে বলতে পারবে যে, ‘এটি ফলপ্রসূ ছিল’। আর এখানেই বিরোধের মূল বিষয়গুলো সামনে চলে আসে—তা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হোক কিংবা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ।
ভাতানকা বলেন, আলোচনা পুনরায় শুরু হলেই কেবল পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। এবং হয়তো উভয় পক্ষই কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে বা অভিন্ন অবস্থান খুঁজে বের করতে আগ্রহী হতে পারে। এভাবেই এই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানো সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘তা না হলে এই সংঘাত কীভাবে শেষ হবে, তা আমি দেখতে পাচ্ছি না।’
ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য থেকে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করেন ভাতানকা। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ ইরানিদের আত্মসমর্পণ বা ছাড় দিতে বাধ্য করবে—এমন আশা করছেন ট্রাম্প।
তবে ভাতানকা সতর্ক করে বলেন, এটি কেবল একটি আশা, কারণ এর ফল কী হবে তা কেউ জানে না।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


