গাজায় আগ্রাসন

‘সম্পূর্ণ অবরোধের’ ৬০তম দিন পার করল ফিলিস্তিনিরা

‘সম্পূর্ণ অবরোধের’ ৬০তম দিন পার করল ফিলিস্তিনিরা

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় ইসরাইলের ‘সর্বাত্মক অবরোধের’ ৬০ দিন পেরিয়ে গেছে বুধবার। এর মধ্যে কোনো ধরনের খাবার, পানি, জ্বালানি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় কোনো সরঞ্জাম প্রবেশ করেনি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এ ভূখণ্ডে। এর জেরে তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ‘যেখানে যা পাচ্ছেন তা-ই খেতে’ বাধ্য হচ্ছেন তারা। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সাহায্যকারী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, গাজা থেকে অবরোধ অবশ্যই তুলে নেওয়া উচিত। বর্তমানে এখানে মানবিক বিপর্যয় চলছে। এর থেকে রক্ষা পেতে ‘সমন্বিত’ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম গত শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে লিখেছে, ইসরাইলের টানা ত্রাণ অবরোধের কারণে গাজায় তাদের খাদ্য মজুত পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় সেখানে পুনরায় ত্রাণসহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া জরুরি।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় অফিসের (OCHA) একটি প্রতিবেদন অনুসারে, জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির সময় সংরক্ষিত খাদ্য সরবরাহ এবং জরুরি মজুত ছেড়েই বহু মানুষকে বাধ্য হয়ে বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে। ফলে তাদের কাছে কোনো ধরনের খাবারই মজুত নেই। জাতিসংঘের অস্থায়ী বেকারি থেকে আর কোনো রুটি সরবরাহ করা যাচ্ছে না স্থানীয়দের। এর সঙ্গে রয়েছে গমের আটা এবং রান্নার জ্বালানি সংকট। ফলে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোতে এক বেলার খাবার জোগাড় করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

এদিকে গাজার মানবিক বিপর্যয় ‘অকল্পনীয় পর্যায়ে’ পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টার্ক। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে সেখানে দ্রুত ত্রাণসহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ইসরাইল ২ মার্চ থেকে গাজায় মানবিক অবরোধ আরোপ করে। এ অঞ্চলে বসবাসকারী ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনির খাদ্য, চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ এবং অন্যান্য সহায়তা বন্ধ করে দেয় তারা।

এদিকে, নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গত সোমবার ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে ইসরাইলের গাজায় মানবিক সহায়তা সরবরাহে বাধ্যবাধকতার বিষয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অন্যদিকে, মধ্য গাজার নুসাইরাতে ইসরাইলের হামলায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। এখানকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আইডিএফের মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণে ‘ভূমিকম্পের’ মতো কেঁপে ওঠে পুরো গাজা। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় এ হামলায় ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ১০৯ জন।

অন্যদিকে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গাজাবাসী আরো ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘে নিযুক্ত ডেনমার্ক এবং নরওয়ের স্থায়ী প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে মানবিক কর্মী, চিকিৎসা কর্মী এবং স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার ওপর আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছেন তারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন