নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

বিশ্বজুড়ে জেন-জি বিক্ষোভ: সাফল্য নাকি চরম ব্যর্থতা

আমার দেশ অনলাইন

বিশ্বজুড়ে জেন-জি বিক্ষোভ: সাফল্য নাকি চরম ব্যর্থতা
ছবি: সংগৃহীত

গত বছর বিশ্বজুড়ে জেন জি প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছিল বিভিন্ন দেশ। দুর্নীতিগ্রস্ত ও বাস্তবতাবিবর্জিত পুরোনো শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, পেরু, নেপালসহ আরো অনেক দেশের কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা।

তরুণরা প্রায়ই পরিবর্তনের সূচনা করে। কিন্তু ১৫ বছর আগের আরব বসন্তের পরে যেমনটা দেখা গেছে, তারা সবসময় যা চায় তা পায় না।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন দেশে জেন-জিদের বর্তমান অবস্থান:

নেপাল:

গত সেপ্টেম্বরে নেপালের তরুণরা দুর্নীতি, রাজনৈতিক দায়মুক্তি এবং সরকার-আরোপিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মাত্র দুই দিনের বিক্ষোভের পর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে।

কী পরিবর্তন হলো:

ছয় মাস পরে, তরুণদের সমর্থিত একটি দল বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়ী হয় এবং ৩৫ বছর বয়সী একজন র‍্যাপার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। (যদিও তিনি মিলেনিয়াল প্রজন্মের, তরুণদের মধ্যে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়।) এটি এখন পর্যন্ত জেন-জিদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

মাদাগাস্কার:

নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতার কয়েক সপ্তাহ পর, মাদাগাস্কারের একজন কর্নেল সেখানকার জেন-জি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দেন। বিক্ষোভের জেরে প্রেসিডেন্ট দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

কী পরিবর্তন হলো:

গত মাসে, সেই কর্নেল-যিনি এখন নতুন প্রেসিডেন্ট, তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বরখাস্ত করে একজন নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগামী বছরের আগে সেখানে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

পেরু:

ক্রমবর্ধমান অপরাধের জেরে গত বছরের সেপ্টেম্বরে পেরুর তরুণরা প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমেছিল। তাদের বিক্ষোভে অবশেষে প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত হন। ফেব্রুয়ারিতে তার অন্তর্বর্তীকালীন উত্তরসূরিকে অভিশংসিত করা হয়।

কী পরিবর্তন হলো:

এমন একটি দেশ, যেখানে এক দশকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ছয়জন নেতা পরিবর্তন হয়েছেন, সেখানে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে জেন-জিদের আন্দোলনই মূল নিয়ামক ছিল তা নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও এতে ইন্ধন দেয়।

এই মাসে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনের ফলাফল মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের আগে প্রকাশ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির এক নির্বাচন কর্মকর্তা। ৮৩ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি জুলাই পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জুনে একটি রানঅফ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন:

ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও বেকারত্বের কারণে যখন সরকারের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছিল, সেই সময়ে আইনপ্রণেতাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ার তরুণরা দেশব্যাপী সংগঠিত হতে শুরু করে। বিক্ষোভ শুরু হলে প্রেসিডেন্ট পার্লামেন্ট সদস্যদের দেওয়া কিছু বিশেষাধিকার প্রত্যাহার করে নেন। তবে তার তার আগেই রাস্তায় বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। পরের মাসে, ফিলিপাইনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়।

কী পরিবর্তন হয়েছে:

উভয় দেশই একসময় গণশক্তির বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরশাসকদের উৎখাত করেছিল। কিন্তু ক্রমবর্ধমান সামাজিক বৈষম্যের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত অভিজাত শ্রেণিই এখনো ক্ষমতায় রয়েছে। এই বিক্ষোভগুলো সেই অবস্থার কোনো পরিবর্তন করতে পারেনি।

মরক্কো:

তরুণদের বেকারত্ব, জরাজীর্ণ স্কুল ও হাসপাতাল। ফুটবল স্টেডিয়ামের মতো মেগাপ্রকল্পে বিপুল ব্যয়। গত শরতে মরক্কোর জেন জিদের দুর্দশার কারণে প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে হয়েছিল, তা বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ তরুণের ভোগ করা দুর্দশা থেকে ভিন্ন ছিল না।

কী পরিবর্তন হয়েছে:

কেনিয়া ও টোগোর মতো, যেখানে জনসংখ্যার অনুপাতে তরুণের সংখ্যা বেশি, মরক্কোতেও আন্দোলনকারীরা প্রাণঘাতী পুলিশি দমনপীড়নের শিকার হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনে তেমন কোনো সাফল্য আসেনি।

বাংলাদেশ:

জিন-জি আন্দোলনে প্রথম সারির দল হিসেবে, ২০২৪ সালের বিপ্লবে তারা সাফল্য অর্জন করে। বাংলাদেশের তরুণ বিক্ষোভকারীরা এক রক্তাক্ত দমনপীড়নের পর একটি স্বৈরাচারী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে।

কী পরিবর্তন হলো:

একজন নোবেলজয়ীকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটাররা আরেকটি রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকারীর নেতৃত্বাধীন দলকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনে। দলটি বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিলেও, গণভোটে ভোটারদের বিপুল সমর্থন পাওয়া একটি সংস্কার সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...