মার্কিন আমদানি শুল্কের কারণে পাকিস্তানের রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমতে পারে, আর ভারতের রপ্তানি ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্য সংস্থা সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসসিসিআই) ও সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (এসএএফএ) কর্তৃক যৌথভাবে প্রকাশিত ‘ট্রেডিং বিয়ন্ড বর্ডার্স’ প্রতিবেদনে এ সতর্কতা জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে ভারতকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ভারতের টেক্সটাইল, গয়না, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং উচ্চমূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ফলে ১৫.৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পুঁজি দেশ থেকে বেরিয়েছে এবং রুপির মান কমেছে। এছাড়াও নন-জেনেরিক ওষুধ ও চলচ্চিত্রে ১০০ শতাংশ শুল্কের কারণে ক্ষতি আরও বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সব আমদানিতে ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করেছেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত ১১–৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন। বিশেষ করে শ্রমঘন শিল্প যেমন টেক্সটাইল, পোশাক ও চামড়াজাত পণ্যের ওপর এ প্রভাব স্পষ্ট। পাকিস্তানের টেক্সটাইল রপ্তানি সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে; শুল্কের ফলে ল্যান্ডেড কস্ট বেড়েছে এবং রপ্তানি আয় ২০–৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। বার্ষিক প্রায় ৪৯০ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ও চলতি হিসাবের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
শুল্কের প্রভাবে ফয়সালাবাদ, করাচি ও লাহোরের টেক্সটাইল হাবগুলোতে শ্রমিকদের চাকরি ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। আঞ্চলিক সংস্থা দুটি দেশকে পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। এসএএফএ–র সভাপতি আশফাক তোলা বলেছেন, পাকিস্তান যদি ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করে, তবে অতিরিক্ত ২–৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় অর্জন সম্ভব।
প্রতিবেদন উল্লেখ করেছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো মার্কিন বাজারের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় শুল্কের ধাক্কা শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানো এ সমস্যার মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্যও খুব সীমিত। মোট বাণিজ্যের মাত্র ৫–৬ শতাংশই দেশগুলোর মধ্যে হচ্ছে, যা আসিয়ান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের তুলনায় অনেক কম। প্রতিবেদনে আঞ্চলিক সংযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এটি দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিকে কিছুটা হলেও সুরক্ষা দিতে পারে।
তথ্যসূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
এসআর

