হুথিদের অবরোধে ধুঁকছে তাইজের হাসপাতাল, মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

হুথিদের অবরোধে ধুঁকছে তাইজের হাসপাতাল, মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাইজের একটি বাজার। ৮ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

ইয়েমেনের তাইজ শহর অবরোধ করে রেখেছে হুথিরা। এতে হাসপাতালগুলোতে ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও জ্বালানির মজুত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। জরুরি চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার, ডায়ালাইসিস ও নবজাতকের সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি চলতে থাকলে শহরটিতে ‘আসন্ন স্বাস্থ্য ও মানবিক বিপর্যয়’ দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।

বিজ্ঞাপন

দেশটির জনস্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, তাইজের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ওষুধ, শিরায় দেওয়ার তরল, চিকিৎসাসামগ্রী ও জ্বালানির মজুত প্রায় শেষ। এতে রোগী, আহত ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও নবজাতকের জীবন তাৎক্ষণিক ঝুঁকিতে পড়েছে।

জ্বালানির অভাবে হাসপাতালের বিদ্যুৎ জেনারেটর, অ্যাম্বুলেন্স এবং ওষুধ ও টিকা সংরক্ষণের শীতলীকরণব্যবস্থা অচল হয়ে পড়তে পারে। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এড়ানো সম্ভব এমন মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়বে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

অবিলম্বে অবরোধ তুলে নেওয়া, সরবরাহের পথ খুলে দেওয়া এবং রোগী, অ্যাম্বুলেন্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও ত্রাণকর্মীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ইয়েমেন সরকার। জাতিসংঘ ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর প্রতি তাইজের হাসপাতালগুলোতে ওষুধ, অক্সিজেন, চিকিৎসাসামগ্রী ও জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি বিলম্বে চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যাওয়া ও প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে।

অবরোধে বিচ্ছিন্ন তাইজ

ইরানের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত। ২০১৪ সালে তারা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নিজেদের সরকার প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে দেশটির উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে।

২০১৫ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তাইজে হুথিদের অবরোধে শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি এলাকায় ইয়েমেন সরকারের বাহিনী আটকা পড়েছিল। ২০১৬ সালে অবরোধের প্রধান অংশ ভাঙা সম্ভব হলেও অন্য প্রবেশপথগুলোতে আংশিক অবরোধ বজায় রাখে হুথিরা।

২০২৪ সালে পূর্ব দিকের একটি সড়ক খুলে দিতে সম্মত হয়েছিল তারা। তবে নতুন করে লড়াই শুরু হলে সড়কটি আবার বন্ধ হয়ে যায়। চলতি অক্টোবরের শুরুতে তাইজে নতুন করে অবরোধ জোরালো হয়।

গত সেপ্টেম্বরে তাইজ প্রদেশের লোহিত সাগর উপকূল ধরে অভিযান শুরু করে হুথিরা। তারা বন্দরনগরী মোখা দখল করে। ৪ অক্টোবরের মধ্যে আত তুরবাহ শহরও তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে তাইজ শহরের সঙ্গে সরকার-নিয়ন্ত্রিত অন্য এলাকাগুলোর সংযোগকারী সর্বশেষ প্রধান সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এর জবাবে অক্টোবরের শুরুতে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেন সরকারের বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করে।

পেট্রলের দাম তিন গুণ

তাইজ প্রদেশে ইয়েমেন সরকারের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের মহাপরিচালক নাবিল জামিল আল-জাজিরাকে বলেন, ২০১৫ সালের অবরোধের তুলনায় এবারের অবরোধ আরো ব্যাপক এবং এর প্রভাবও বেশি গুরুতর।

জামিলের হিসাবে, প্রদেশটির সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে প্রায় ২৮ লাখ মানুষ বসবাস করেন। সাম্প্রতিক সময়ে আরো প্রায় দুই লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

অবরোধের কারণে জ্বালানির সংকট তীব্র হয়েছে। কালোবাজারে ২০ লিটার পেট্রলের দাম ৩০ হাজার ইয়েমেনি রিয়াল (১৯ ডলার) থেকে বেড়ে ৯০ হাজার রিয়ালে (৫৮ ডলার) দাঁড়িয়েছে।

জামিল বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো সাড়া বা মাঠপর্যায়ে হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় আছি।’

এদিকে লড়াইয়ে ইয়েমেনের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরো বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

জাস্টিস ফর রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রধান ও আইনজীবী নাবিল শারিয়ান বলেন, ‘কোনো সংঘাতে বেসামরিক মানুষকে কখনোই চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।’

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...