মিয়ানমারে মাসব্যাপী সাধারণ নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ আজ রোববার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সামরিক জান্তা সরকারের অধীনে আয়োজিত এই নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সমর্থনপুষ্ট দলটির বিপুল জয় প্রায় নিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই ভোটের মূল উদ্দেশ্য সেনাশাসনকে দীর্ঘায়িত করার জন্য একটি বেসামরিক বৈধতার আড়াল তৈরি করা।
দীর্ঘদিন ধরে সামরিক শাসনের অধীনে থাকা মিয়ানমার ২০১০-এর দশকে প্রায় এক দশক বেসামরিক সংস্কারের পথে এগোলেও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে সেই প্রক্রিয়া থেমে যায়। ওই সময় গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চিকে গ্রেপ্তার করা হলে দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ ও তীব্র মানবিক সংকটের সূচনা হয়।
ইয়াঙ্গুন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পূর্তির ঠিক এক সপ্তাহ আগে রোববার ভোর ৬টা থেকে দেশের কয়েক ডজন আসনে তৃতীয় ও শেষ দফার ভোট শুরু হয়েছে। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকায় ভোটগ্রহণ সম্ভব হয়নি।
সেনাবাহিনী জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও অং সান সু চিকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা এবং তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিলুপ্ত ঘোষণার কারণে গণতন্ত্রপন্থিরা বলছেন, পুরো নির্বাচনই সামরিক বাহিনীর মিত্রদের পক্ষে সাজানো।
নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইয়াঙ্গুনের এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, “এই নির্বাচন থেকে আমার কোনো প্রত্যাশা নেই। আমার মনে হয় পরিস্থিতি আগের মতোই স্থবির থাকবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (ইউএসডিপি) কার্যত সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত একটি দল, যেখানে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের প্রভাব প্রবল। নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপে দলটি নিম্নকক্ষের প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং উচ্চকক্ষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে।
এ ছাড়া সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের উভয় কক্ষের ২৫ শতাংশ আসন সরাসরি সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। নবনির্বাচিত পার্লামেন্ট পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে, যেখানে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেও প্রার্থী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জান্তা সরকার নিজেদের শাসনকে বেসামরিক বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে কিছু সাধারণ ভোটার ভিন্নভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ইয়াঙ্গুনের এক নারী ভোটার জানান, তিনি ইউএসডিপি ছাড়া অন্য যে কোনো দলকে ভোট দেবেন।
তিনি বলেন, “আমি জানি শেষ পর্যন্ত ফল কী হবে, তবু আমার ভোটের মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনায় সামান্য হলেও বাধা দিতে চাই।”
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও সোমবারই ইউএসডিপি তাদের জয় ঘোষণা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নির্বাচনে অং সান সু চির দল এনএলডি বিপুল বিজয় অর্জন করেছিল। কিন্তু ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। বর্তমানে ৮০ বছর বয়সি নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চি অজ্ঞাত স্থানে বন্দি রয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আটকে রাখা হয়েছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

