ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে আকস্মিক বন্যায় ৯ জন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে এনডিটিভি। ধরলি গ্রাম এলাকার কাছে পানির প্রবল স্রোতে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে নিখোঁজ হন তারা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনা শিবির হর্ষিল থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে ধরলি গ্রাম এলাকার ৯ সেনা নিখোঁজ হয়।
কর্তপক্ষ বলছে, সেনাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তাদের সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চরম প্রতিকূলতার মধ্যে তাদের দৃঢ়তা ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রকৃত চেতনাকে প্রতিফলিত করে। সেনাবাহিনী দৃঢ়, নিঃস্বার্থভাবে জাতির সেবায় সর্বদা প্রস্তুত। ইতোমধ্যে উদ্ধার অভিযানে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
ধরলি হলো গঙ্গোত্রী যাওয়ার পথে প্রধান যাত্রাবিরতি এবং এখানে অনেক হোটেল ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ক্ষীর গঙ্গা নদীর জলাধার এলাকায় মেঘ ভাঙনের ঘটনা ঘটে, যার ফলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।
আকস্মিকভাবে প্রবল বর্ষণকে হিমালয়ের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে গণ্য করা হয়। যার ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সীমিত এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং অনেক সময় বন্যা দেখা দেয়।
ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দলগুলো আটকে পড়া গ্রামবাসীদের সরিয়ে নেওয়া এবং স্থলভাগে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান শুরু করে। ঘটনার ১০ মিনিটের মধ্যেই ১৫০ জন কর্মীকে দুর্যোগস্থলে পাঠায় ভারতীয় সেনাবাহিনী।
এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী বলেছে, ‘পরিস্থিতি ক্রমাগত পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক নাগরিকদের সম্ভাব্য সকল সহায়তা প্রদানে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বেদনাদায়ক বলে অভিহিত করে বলেছে নিখোঁজদের সন্ধানে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ভারতীয় হিমালয় পর্বতমালা সংলগ্ন এলাকা অস্বাভাবিক এবং চরম আবহাওয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। যার মধ্যে রয়েছে হাঠৎ প্রবল বর্ষণ, অতিবৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা এবং তুষারধস।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



