ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলন ও রাষ্ট্র গঠনে হজের ভূমিকা, আলেম-শিক্ষার্থীদের অবদান এবং হজযাত্রার ঐতিহাসিক নিদর্শন তুলে ধরা হবে জাদুঘরে।
ইন্দোনেশিয়ায় হজের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে একটি বিশেষ জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। হজের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাষ্ট্র গঠনের সম্পর্ক তুলে ধরাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া প্রতি বছর সবচেয়ে বেশিসংখ্যক হজযাত্রী পাঠায় পবিত্র হজ পালনের জন্য। ইসলামের অন্যতম প্রধান এই ইবাদতের সঙ্গে দেশটির মানুষের দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ইন্দোনেশীয় হজ জাদুঘরে দেশটিতে হজযাত্রার ইতিহাস তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি স্বাধীনতা সংগ্রামে ইসলামি পণ্ডিত, আলেম ও ধর্মীয় নেতাদের অবদানও বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে।
দেশটির উপ-হজমন্ত্রী দাহনিল আনজার সিমাঞ্জুনতাক এক বিবৃতিতে বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় হজের ইতিহাস শুধু পবিত্র ভূমিতে তীর্থযাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্য, জ্ঞান বিনিময় এবং রাষ্ট্র গঠনে ইসলামি পণ্ডিত ও শিক্ষার্থীদের অবদান।
গত ২২ অক্টোবর সংস্কৃতিমন্ত্রী ফাদলি জনের সঙ্গে বৈঠক করেন দাহনিল আনজার সিমাঞ্জুনতাক। বৈঠকে প্রস্তাবিত জাদুঘরের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।
হজের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু নথি ও ঐতিহাসিক নিদর্শন এখনো নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। পরিকল্পিত জাদুঘরের মাধ্যমে এসব ঐতিহাসিক উপাদান সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের উদ্যোগ জোরদার করতে চায় ইন্দোনেশিয়া।
দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের পর ১৯৪৫ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করে ইন্দোনেশিয়া। ষোড়শ শতাব্দীর শেষ দিকে শুরু হওয়া ডাচ শাসনামলে দেশটি থেকে বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন নিয়ে যাওয়া হয়।
সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে উপ-হজমন্ত্রী বলেন, ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে হজ স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। দেশটির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে থাকা আলেম ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এই ভূমিকা প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি হজ পালনকারী ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় বীরদের মধ্যে হোসে তজোক্রোআমিনোতো (এইচওএস তজোক্রোআমিনোতো), হাসিম আশআরি ও আহমদ দাহলানের নাম উল্লেখ করেন।
হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত জাদুঘরে বিভিন্ন সময়ের হজযাত্রার বিবরণ তুলে ধরে এমন আর্কাইভ, ছবি, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংগ্রহ এবং প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন যুগে ইন্দোনেশীয় মুসলমানদের জীবনযাত্রার ইতিহাসও তুলে ধরা হবে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণের স্থান হওয়ার বাইরেও ইন্দোনেশীয় হজ জাদুঘরটি শিক্ষা, গবেষণা ও ইতিহাসবিষয়ক জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

