বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মক্কার জলবায়ুকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছে। এর ফলে গ্রীষ্মকাল ছাড়াও অন্যান্য মাসেও চরম ও বিপজ্জনক তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হচ্ছেন লাখ লাখ হজযাত্রী। নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
গবেষণাটিতে দেখা গেছে, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনের কারণে এখন মে মাসেও নিয়মিতভাবে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের এর মতো তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। বিগত দশকগুলোতে এই ধরনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কেবল গ্রীষ্মকালেই দেখা যেত। গবেষকেরা বলেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে দ্রুত সরে না এলে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ মক্কায় হজ প্রায় সারা বছরই বিপজ্জনক তাপপ্রবাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
হজের আয়োজক দেশ সৌদি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘদিনের প্রতিবন্ধক।
মুসলমানরা এ বছরের হজযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছেন। আর্থিকভাবে সক্ষম সব মুসলমানের জীবনে অন্তত একবার এই হজ পালন করা আবশ্যক।
২০২৪ সালে হজ অনুষ্ঠিত হয় জুন মাসে। তখন প্রচণ্ড তাপ ও আর্দ্রতার কারণে এক হাজার ৩০০ জনেরও বেশি হজযাত্রী মারা যান। ঐতিহাসিকভাবে মে মাস অপেক্ষাকৃত শীতল থাকে এবং ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা খুব কমই দেখা যায়। তবে বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে জলবায়ু পরিবর্তেনের ফলে এখন প্রতি দুই থেকে তিন বছরে একবার মে মাসে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখা যাবে।
ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন গ্রুপের বিজ্ঞানীরা বলছেন, মে মাসের হজ এখন ‘গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মতোই বিপজ্জনক’।
সৌদি কর্তৃপক্ষ তাপ মোকাবিলায় নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ছায়াযুক্ত হাঁটার পথ, শীতলীকরণ কেন্দ্র, কুয়াশা ছড়ানোর ব্যবস্থা এবং বর্ধিত চিকিৎসা পরিষেবা, যা তীর্থযাত্রীদের মধ্যে তাপজনিত অসুস্থতার ঘটনা কমাতে সাহায্য করেছে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ফ্রিডেরিকে অটোর মতে, ‘তবে, এর জন্য শুধু তাৎক্ষণিক প্রশমনের চেয়েও বেশি কিছু প্রয়োজন। যদি আমরা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর আমাদের নির্ভরতা দ্রুত না কমাই, যা সৌদি অর্থনীতির একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একটি শিল্প, তাহলে আমরা এই বাস্তবতা মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছি যে লাখ লাখ মুসলমান এমন এক জলবায়ুতে হজের আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে বাধ্য হবেন, যা এর জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র
ওমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি মার্কিন অর্থমন্ত্রীর