গাজায় আগ্রাসন

ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩০

ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩০

অবরুদ্ধ গাজায় যেন থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। একের পর এক ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ ফিলিস্তিনিরা। শনিবার ভোরে গাজা শহরে আইডিএফের বিমান হামলায় নিহত হয়েছে শিশুসহ ১১ জন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর আগে ৪৮ ঘণ্টায় গাজায় প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭-এ। এর মধ্যে সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে। এদিকে গাজার একটি হাসপাতালে অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হয়ে আল সাকাফি নামে এক কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই পরিস্থিতিতে গাজায় ইসরাইলের টানা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা অবরোধের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপসহ বিশ্বের অনেক দেশ। ২ মার্চ থেকে এই ভূখণ্ডে সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করেছে ইসরাইল। এরপর থেকে কোনো পানি, খাবার বা চিকিৎসা সরঞ্জামবাহী গাড়ি প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে অপুষ্টিতে কমপক্ষে ৫১ জন মারা গেছে।

এদিকে শনিবার গাজা শহরের উত্তরাঞ্চলের শেখ রিদওয়ানপাড়ায় একটি খাদ্য বিতরণকেন্দ্র লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে নিহত হয় ছয় ফিলিস্তিনি। আহত হয় বেশ কয়েকজন। গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নের জন্য খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরাইল- এমনটাই দাবি করেছে বিভিন্ন অধিকার সংগঠন। সেভ দ্য চিলড্রেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজার ওপর অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। অন্যথায় এখানকার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে প্রাণঘাতী হামলা শুরু করে ইসরাইল। ফলে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৩৯৬ জন। আহত হয় ছয় হাজার ৩২৫ জন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর নৃশংস হামলায় ৫২ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গত নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এ ছাড়া একই আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখিও হয়েছে ইসরাইল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন