ভারতের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। তবে, নির্বিচারে বলপ্রয়োগকে স্বাভাবিক করার বিষয়ে সতর্ক করেছে দেশটি। মঙ্গলবার জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়েছে।
চীনের তিয়ানজিনে শাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তিনি বলেন, পাকিস্তান আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি ও ভারসাম্যপূর্ণ নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে, তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি জবরদস্তি এবং আগ্রাসনকে রাষ্ট্রীয় কৌশলের আদর্শ হাতিয়ারে পরিণত করতে দেওয়া হয় তাহলে শান্তি অর্জন করা যাবে না।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কিন্তু আমরা নির্বিচারে বলপ্রয়োগকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে পারি না।’
গত ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু ও কাশ্মিরে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। নিহতদের বেশিরভাগই পর্যটক ছিলেন। নয়াদিল্লি এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে। যদিও ইসলামাবাদ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘সব বিরোধ ও মতপার্থক্য সংঘাত ও সংঘর্ষের মাধ্যমে নয়, বরং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘একটি ব্যাপক ও কাঠামোগত সংলাপ শুরু করলে দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করা বিষয়গুলোর অর্থপূর্ণ সমাধান সম্ভব।’
দার আরও জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক আস্থা পুনরুদ্ধার ও ভবিষ্যতে উত্তেজনা এড়াতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য। দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক উত্তেজনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের উত্তেজক বক্তব্য ও কৌশলগত বেপরোয়া সত্ত্বেও পাকিস্তান সংযত ও দায়িত্বশীল নীতি গ্রহণ করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পাকিস্তান এসসিওকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করে।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

