টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বিশ্লেষণ

চীন সফরে এরদোয়ান, কতটা তাৎপর্যপূর্ণ

চীন সফরে এরদোয়ান, কতটা তাৎপর্যপূর্ণ

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। পাঁচ বছরের মধ্যে এটি এরদোয়ানের প্রথম চীন সফর। তার সফর সূচিতে রয়েছে, সম্মেলনে ভাষণ, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারী নেতাদের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা।

এই বছরের এসসিও শীর্ষ সম্মেলন বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার পটভূমিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

বিজ্ঞাপন

তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহমেত ওজকান বলেন, ‘এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের লক্ষ্য তুরস্কের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং সংস্থার কাঠামোর মধ্যে বহুপক্ষীয়ভাবে জড়িত হওয়া।’

তিনি জানান, ‘তুরস্ক এসসিওকে কোনো একক দেশের নেতৃত্বাধীন ব্লক হিসেবে দেখে না। বরং তারা একে পশ্চিমা-আধিপত্যবাদী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিপরীতে একটি সম্ভাব্য উদীয়মান বহুপক্ষীয় বিকল্প হিসেবে দেখে থাকে।’

স্বাভাবিক সংযোগ:

২০১২ সাল থেকে তুরস্ক এসসিওয়ের সংলাপের অংশীদার। তুরস্ক এই মর্যাদা অর্জনকারী প্রথম এবং একমাত্র ন্যাটোভুক্ত দেশ। ২০০১ সালে চীন, রাশিয়া এবং মধ্য এশীয় রাষ্ট্রগুলোর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এসসিও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।

এরদোয়ানের অধীনে, তুরস্ক এসসিওর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছেন, ২০১৭ সালে এসসিও এনার্জি ক্লাবের সভাপতিত্ব করেছেন এবং চীন ও রাশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি করেছেন।

সাবেক কিরগিজ প্রধানমন্ত্রী জোমার্ট ওতোরবায়েভ বলেন, ‘তুরস্ক এবং এসসিওর মধ্যে একটি স্বাভাবিক সংযোগ রয়েছে। কারণ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে তিনটি দেশ - কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান এবং উজবেকিস্তান এরা তুর্কিভাষী।

তার মতে, ‘তিয়ানজিন শীর্ষ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের উপস্থিতি তুর্কিভাষী দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করবে।’

এসসিও মূলত তার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহমেত ওজকান ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, তিয়ানজিনে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে আঙ্কারার দুটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে:

প্রথমত, তারা তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি অ-পশ্চিমা ভাবধারা প্রদর্শন করতে চায় এবং এসসিওতে প্রতিনিধিত্বকারী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করতে ইচ্ছুক।

দ্বিতীয়ত, তুরস্ক সম্ভবত গাজার বিষয়টি উত্থাপন করবে, অন্তত ব্যক্তিগত আলোচনায়। আঙ্কারা ইউক্রেন সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে পারে অথবা সাইড-লাইন বৈঠকে অংশগ্রহণ করতে পারে যা ভবিষ্যতের নেতৃত্ব-স্তরের সংলাপের জন্য মঞ্চ তৈরি করতে সহায়তা করবে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি:

বহুপক্ষীয় ফোরামের বাইরে, এরদোয়ান বেইজিংয়ের সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্ক জোরদার করার ওপর জোর দেবেন। ওজকানের মতে, ‘তুরস্ক এবং চীনের মধ্যে সম্পর্ক এরইমধ্যে ইতিবাচক পথেই রয়েছে। এবারের বৈঠকের মাধ্যমে সম্ভবত সেই গতি আরো বৃদ্ধি পাবে।’

সেন্টার ফর চায়না অ্যান্ড গ্লোবালাইজেশন (সিসিজি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হেনরি হুইয়াও ওয়াং একইভাবে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘তুরস্ক ন্যাটো সদস্য এবং এসসিও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র উভয়ই। শান্তির অগ্রগতিতে চীনের সঙ্গে তার একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব রয়েছে।’

ওয়াং জাতিসংঘের সংস্কারের জন্য এরদোয়ানের আহ্বানের কথা তুলে ধরে, তুরস্কের অবস্থানকে অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক ব্যবস্থা প্রতি চীনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিপূরক হিসাবে বর্ণনা করেন।

বিশ্বব্যাপী সংকট মোকাবেলায় বহুপক্ষীয় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

ওজকান বলেন, তুরস্কের ইউরেশিয়া নীতির মূল কথা হলো ‘সংযোগ স্থাপন করা কিন্তু নির্ভরশীলতা নয়। তিনি জানান, আঙ্কারা পশ্চিমা এবং পশ্চিমা নয় এমন উভয় জাতির সঙ্গেই সম্পর্ক চায়। একই সঙ্গে কোনো একক শক্তির ওপর নির্ভরতা এড়িয়ে চলে।

তার মতে, এ কারণেই তুরস্ক যেমন পশ্চিমের অংশ তেমনি পশ্চিমের বাইরের দেশগুলোরও অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটো সদস্য এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অংশীদার হিসেবে তুরস্কের দ্বৈত ভূমিকা পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করবে।

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন