একটি ‘অনুকূল’ পরিবেশে বাংলাদেশের সঙ্গে সব বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত ভারত। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একথা বলেন। খবর দ্য হিন্দু।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা এবং নয়াদিল্লির মধ্যে ইতিমধ্যেই দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর পূর্ণাঙ্গ সমাধানের জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া রয়েছে।’
রণধীর জয়সওয়াল আরো বলেন, প্রতিটি দেশের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কের আলাদা ভিত্তি রয়েছে। তবে ‘পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট’ সেই সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
১৯ জুন চীনের কুনমিং শহরে পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে জয়সওয়াল বলেন, ভারত আঞ্চলিক বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে যা ভারতের স্বার্থ এবং নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি দেশের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, তা আলাদা আলাদা ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু সেই সম্পর্ক বিচার করার সময় আমরা পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় নিয়ে থাকি।’
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চান গৌতম লাহিরি নামের এক সাংবাদিক। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফে কোনো যোগাযোগ করা হয়েছে কিনা?
জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে যেসব বিষয়ে পরিবর্তন আনতে বলা হয়েছে, সেগুলো ন্যায়বিচার, সমমর্যাদা এবং পারস্পরিক চাওয়ার ভিত্তিতেই নির্ধারিত।’
গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে চুক্তি রয়েছে, ২০২৬ সালে সেটার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।
এই চুক্তি নবায়নের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কিনা, জয়সওয়ালের কাছে সেই প্রশ্ন তোলেন এবিপির সাংবাদিক অগ্নি রায়।
জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশ ৫৪টি নদীর পানি ভাগাভাগি করে। আর এসব নিয়ে আলোচনার জন্য দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আগে তিনি এসব কথা জানালেন। ওই বৈঠকে সাবেক কূটনীতিক এবং বিশেষজ্ঞরা ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ নিয়ে আলোচনা করবেন।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

