গাজা দখলে ইসরাইলের হামলা জোরদার, বাস্তুচ্যুত বহু মানুষ

গাজা দখলে ইসরাইলের হামলা জোরদার, বাস্তুচ্যুত বহু মানুষ

গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে ইসরাইল। কয়েকদিন ধরে ইসরাইলি বাহিনীর বোমাবর্ষণে সেখানে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হামলা থেকে বাঁচতে গাজা সিটির দক্ষিণ জেইতুন এলাকা থেকে পালিয়েছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। খবর বিবিসির।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা সাহায্য সংস্থাগুলোকে গৃহহীন ফিলিস্তিনিদের জন্য আবার গাজায় তাঁবু আনার অনুমতি দেওয়া শুরু করবে। ইসরাইল গাজা সিটি থেকে দশ লাখ মানুষকে জোর করে দক্ষিণ অঞ্চলে শিবিরে স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনা করছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গাজা দখলের এই পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে। এরআগে ইসরাইলের যুদ্ধ মন্ত্রিসভা গাজা সিটি দখল এবং সেখানকার জনগণকে স্থানচ্যুত করার পরিকল্পনা অনুমোদন করে।

গাজা সিটি পৌরসভার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ছয় দিনের অব্যাহত ইসরাইলি বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ এবং ধ্বংসযজ্ঞে জেইতুনে এরইমধ্যে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জেইতুনে কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ বাস করেন, যাদের বেশিরভাগই খাবার ও পানির তীব্র সংকট রয়েছে।

হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলি বাহিনী গাজা সিটির পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে, বিশেষ করে জেইতুনে অব্যাহতভাবে আক্রমণ চালাচ্ছে।

গাজা সিটি কখন দখল করা হবে তার সঠিক সময়সূচী দেয়নি ইসরাইল সরকার। তবে ইসরেইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ৭ অক্টোবর থেকে পুরো গাজা সিটি ইসরিইলি দখলে নিতে চান বলে জানা গেছে।

পৌরসভার মুখপাত্র বলেছেন যে ইসরেইলি হামলার প্রায় দুই বছরে গাজা সিটির ৮০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাতিসংঘের হিসেবে, গাজার ১৯ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৯০ শতাংশ এরইমধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এদিকে, গাজা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইসরাইলে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভে হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্তির জন্য যেুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি চুক্তির দাবি জানানো হয়।

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন