এল নিনোর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে শনিবার এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রিতে সই করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাস। একই সঙ্গে বন্যা ও খরাপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত উদ্ধারকর্মী পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাস সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনোর প্রভাবে দেশটিতে খরা ও বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশটির ৯টি প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে ৬টিই খরার কবলে পড়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৭৮ হাজার পরিবার। পাশাপাশি পানির সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ইতোমধ্যে ৭৫ হাজারের বেশি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বলিভিয়ার জন্য নতুন নয়। দেশটিতে প্রায়ই বন্যাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দেয়। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরেও সান্তা ক্রুজ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল।
এদিকে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য দেশেও চরম আবহাওয়ার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। প্রতিবেশী চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। অন্যদিকে, গত মাসে পেরুতে ছড়িয়ে পড়া দাবানলে অন্তত ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
আবহাওয়াবিদদের কাছে পরিচিত জলবায়ু পরিস্থিতি এল নিনো সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর সক্রিয় হয়। এটি পৃথিবীর স্বাভাবিক জলবায়ু চক্রের একটি অংশ। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুমণ্ডলীয় চাপ ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন ঘটে। ফলে কোনো অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যা দেখা দেয়, আবার অন্য কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়ে।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


