ইরানে ইসরাইলি বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)। তবে গ্রুপটির সদস্য হলেও ভারত ভিন্নমত পোষণ করেছে এবং গ্রুপের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতি সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
শুক্রবার ভোরে হঠাৎ করেই ইরানে হামলা চালায় ইসরাইল। এতে দেশটির সশস্ত্রবাহিনীর প্রধানসহ কয়েকজন জেনারেল ও পরমাণু বিজ্ঞানী মিলে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। যার মধ্যে অন্তত ২০টি শিশু রয়েছে। এ অবস্থায় শনিবার ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানায় সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদুলু জানিয়েছে, সংস্থাটির সদস্য দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইসরাইলের এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে এসসিও।
এসসিও আরো বলেছে, ইসরাইলি হামলাগুলো "বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ"। সেইসঙ্গে "ইরানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষতি করে এবং বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে।"
এতে আরও বলা হয়েছে, “এসসিও’র সদস্য দেশগুলো শান্তিপূর্ণ, রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক উপায়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিস্থিতির সমাধানের জন্য দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।” এবং ইরানের জনগণ এবং সরকারের প্রতি “আন্তরিক সমবেদনা” প্রকাশ করে।
ব্লকটি আরো নিশ্চিত করেছে যে, তারা “এসসিও-ভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত যেকোনো বেআইনি পদক্ষেপকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে” এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তবে, ভারত বিবৃতি থেকে নিজেকে বিরত রেখেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এসসিও ঘোষণাপত্রের আলোচনায় অংশ নেয়নি।
“এই বিষয়ে ভারতের নিজস্ব অবস্থান একই রয়েছে,” বলেছে মন্ত্রণালয়। “আমরা উত্তেজনা হ্রাসের জন্য সংলাপ এবং কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো ব্যবহার করার আহ্বান জানাই এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সেই দিকে প্রচেষ্টা চালানো অপরিহার্য।”
ভারত এখন পর্যন্ত হামলার জন্য ইসরাইলের নিন্দা করা থেকে বিরত থেকেছে; তবে বারবার সংযম ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।
২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এসসিও’র সদস্য রাষ্ট্র ১০টি। দেশগুলো হলো- চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ইরান ও বেলারুশ। ইরান ২০২৩ সালে সংস্থাটির পূর্ণ সদস্যপদ পায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

