মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও মক্কায় বিদেশি হাজিদের ঢল

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও মক্কায় বিদেশি হাজিদের ঢল

মক্কা, সৌদি আরব: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মক্কার তীব্র দাবদাহ— কোনো কিছুই থামাতে পারেনি আল্লাহর ঘরের মেহমানদের। সমস্ত প্রতিকূলতা ও জটিলতা উপেক্ষা করে চলতি বছরের পবিত্র হজে অংশ নিতে এ পর্যন্ত ১৫ লাখেরও বেশি বিদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈরী পরিস্থিতি সত্ত্বেও এই সংখ্যা গত বছরের আন্তর্জাতিক হজযাত্রীর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

যুদ্ধ ও বিমান চলাচলে বিপর্যয়

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি সামরিক সংঘাতের জেরে সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দেয় এবং যাতায়াত খরচ একলাফে অনেক বেড়ে যায়। তবে সম্প্রতি একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি চুক্তির খসড়া আলোচনার খবরের মাঝেও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা সচল করতে বিমান সংস্থাগুলোকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

সমস্ত প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই মক্কা অভিমুখে হাজিদের ঢল অব্যাহত রয়েছে।

সৌদি আরব হজ পাসপোর্ট ফোর্সেসের কমান্ডার সালেহ আল-মুরাব্বা জানান, “এখন পর্যন্ত বিদেশ থেকে আগত মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১৫,১৮,১৫৩ জনে পৌঁছেছে।”

সোমবার থেকে হজের আনুষ্ঠানিক আচার-অনুষ্ঠান শুরু হওয়ায় এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বছর মোট ১৬,৭৩,৩২০ জন মুসলিম হজ পালন করেছিলেন, যার মধ্যে সৌদি আরবের বাইরে থেকে এসেছিলেন ১৫,০৬,৫৭৬ জন।

যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি এবার হজযাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মক্কার মরুভূমির চরম আবহাওয়া। ইতিমধ্যেই সেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার করেছে, যা চলতি সপ্তাহে ৪২-৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে সৌদির আবহাওয়া দপ্তর।

তীব্র গরমের কারণে অনেক হাজি দিনের বেলা বাইরে বের হতে পারছেন না। মিশর থেকে আসা প্রথম বারের হজযাত্রী ইনাস গামাল বলেন, “এখানে প্রচণ্ড গরম, আমার কল্পনার চেয়েও বেশি। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দুপুরের তীব্র রোদের কারণে আমি কাবা শরিফে গিয়ে নামাজ পড়তে পারছি না, হোটেলেই আদায় করছি।”

যুক্তরাজ্য থেকে আসা ইমাদ আহমেদ জানান, শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে তিনি প্রচুর পানি এবং খনিজ সমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করছেন।

হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি ও সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি

বিগত ২০২৪ সালের হজে প্রচণ্ড গরমে ১,৩০০ জনেরও বেশি হজযাত্রী মারা গিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার সৌদি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। গ্র্যান্ড মসজিদ বা মসজিদুল হারামের চত্বরকে ঠান্ডা রাখতে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বড় ফ্যান, পানির কুয়াশা ছিটানো (মিস্ট স্প্রেয়ার) এবং শীতল মেঝে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও হাজিদের মাঝে বিনামূল্যে বরফ-ঠান্ডা পানি বিতরণ করা হচ্ছে।

সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাজিদের সেবায় ৫০,০০০ এরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৩,০০০ অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে। ইতিমধ্যেই হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত ১৪৪ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হজের আধ্যাত্মিক আবহ

আজ সোমবার থেকে হাজিরা মক্কার নিকটবর্তী তাবু নগরী মিনায় জড়ো হতে শুরু করবেন। এরপর মঙ্গলবার হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে তারা অবস্থান করবেন আরাফাতের ময়দানে।

তীব্র গরম ও আচ্ঞলিক অস্থিরতার মধ্যেও হাজিদের মধ্যে বিরাজ করছে এক অপার্থিব আনন্দ। মিশরীয় হজযাত্রী সামিয়া আব্দুল মোনেম আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, “আল্লাহর দরবারে কোটি শুকরিয়া যে আমি এখানে আসতে পেরেছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”

তথ্যসূত্র: এএফপি

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...