বিবিসির প্রতিবেদন

নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা কতটা সামলাতে পারবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা কতটা সামলাতে পারবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে সতর্ক করে দিয়েছেন লেবার পার্টির পার্লামেন্ট সদস্যরা। লেবার পার্টির সবাই যে নেতৃত্বের পরিবর্তন চাইছেন এমন নয়, তবে কিয়ার স্টারমারের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীরাও তাকে দ্রুত পরিবর্তনের জন্য চাপ দিচ্ছেন।

বিবিসির লরা কুয়েন্সবার্গ বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মানুষ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তিনি কি পরিস্থিতি পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা দেখাতে পারবেন?

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় নির্বাচনে লাখ লাখ ভোটার জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের ২২ মাসে তিনি যা করেছেন তাতে তারা সন্তুষ্ট নন। তার সহকর্মীরাও প্রকাশ্যে বলছেন যে, তারাও সন্তুষ্ট নন।

শক্তিশালী ইউনিয়নগুলো, যারা এখনো দলের খরচ বহন করে, তারাও প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করেছে। তাদের একজন নেতা বিবিসিকে বলেছেন, ‘পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে এ বিষয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন।’

এই নির্বাচনে লেবার পার্টির শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। এখন লেবার পার্টি কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসবে?

স্টারমারের মিত্ররা বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো কাজ হলো আরো ভালো হওয়া, আরো দ্রুত এগিয়ে যাওয়া, আরো কার্যকরভাবে শাসনকাজ পরিচালনা করা এবং ভোটারদের ‘পরিবর্তন’ হয়েছে এটা দেখানো।’

তারা নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করতে চাইছেন, যারা জানেন তারা কী করছেন এবং তাদের কাজ জনগণের জীবনে অর্থপূর্ণ উন্নতি বয়ে আনবে। শনিবার স্টারমার বলেন, ‘আমরা এমন ভুল করেছি, যা প্রয়োজন ছিল না।’ এর মধ্যে অন্যতম হলো, ‘জনগণকে সেই পরিবর্তন সম্পর্কে বোঝানোর জন্য যথেষ্ট কাজ না করা যা তাদের প্রভাবিত করবে, তাদের জীবনকে আরো উন্নত করবে’।

সোমবার ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। ভাষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেবেন তিনি।

লেবার পার্টি এবং এর এমপিরা ভোটারদের মন জয় করতে মরিয়া হয়ে আছেন। সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ভাষণে লেবার-বান্ধব অনেক পদক্ষেপের প্রস্তাব থাকবে। কিন্তু আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো নাটকীয় বা চমকপ্রদ কিছু থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

স্টারমার সাধারণত হাল ছাড়েন না, কিন্তু এ ধরনের সংকটে থাকা সরকারগুলোর ক্ষেত্রে ইতিহাস তেমন একটা পক্ষে থাকে না। স্টারমারের চেয়ে ভালো ও নির্ভরযোগ্য বিকল্প কে আছেন, তাও স্পষ্ট নয়।

সারা দেশে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। তার পদত্যাগের দাবি জানানো এমপিদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দলের মধ্যে স্টারমারের প্রতি সমর্থন কমে আসছে। ক্রমশই মনে হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের সময় ফুরিয়ে আসছে।

সূত্র: বিবিসি

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...