আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ইসরাইল শত্রু, আমেরিকা বন্ধু নয়: মুসলিম বিশ্বকে ইরানের সতর্কতা

আমার দেশ অনলাইন

ইসরাইল শত্রু, আমেরিকা বন্ধু নয়: মুসলিম বিশ্বকে ইরানের সতর্কতা

ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলার ১৮ দিন পার হলো মঙ্গলবার। পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান ও সেক্রেটারি আলি লারিজানি বিশ্বের মুসলমানদের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখেছেন; যেখানে তিনি আমেরিকা ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোকে ইরানের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার প্রতিবেশী ইসলামি রাষ্ট্রগুলোকে উদ্দেশ করে লেখা ছয় দফা খোলা চিঠিতে এই আহ্বান জানান তিনি।

লারিজানির এই চিঠিকে আংশিক তিরস্কার, আংশিক ধর্মতাত্ত্বিক অভিযোগ এবং আংশিক কৌশলগত আবেদন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আলি লারিজানি চিঠিতে লিখেছেন : আমেরিকা প্রমাণ করেছে, তারা মুসলিম দেশের জন্য নির্ভরযোগ্য অংশীদার নয়। আর ইসরাইলি শাসনব্যবস্থা তাদের শত্রু। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে অবৈধ হামলা চালানো হয়েছে।

আরবি ভাষায় লেখা সেই খোলা চিঠিতে আলি লারিজানি বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত শুরু হয়েছে, তার একদিকে আছে আমেরিকা ও ইসরাইল, অপরদিকে আছে প্রতিরোধী শক্তি। আপনারা সবাই জানেন, আমেরিকা কারো প্রতি বিশ্বস্ত নয় এবং ইসরাইল আপনাদের শত্রু। এক মুহূর্তের জন্য থামুন এবং এ অঞ্চলের ভবিষ্যতের ব্যাপারটি চিন্তা করুন। ইরান সব সময়ই মুসলিম দেশের প্রতি আন্তরিক এবং কখনো আপনাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না।’

তিনি আরো লিখেছেন, তেহরান যখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করছিল, তখন দেশটিকে বিভক্ত করতে একটি প্রতারণামূলক আমেরিকান-জায়নবাদী আগ্রাসনের সম্মুখীন হয়েছিল ইরান। আগ্রাসনকারীরা ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলি খামেনিকে হত্যা করেছে, হত্যা করেছে সাধারণ নাগরিক ও সামরিক কমান্ডারদের। ফলে তারা ইরানিদের জাতীয় ইসলামি প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, “আপনারা কি জানেন রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরল কিছু ঘটনা ছাড়া কোনো ইসলামি সরকারই ইরানি জাতির সাহায্যে এগিয়ে আসেনি? কিন্তু ইরানি জাতি দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি দিয়ে এই দুষ্ট শত্রুকে এমনভাবে দমন করেছে যে, আজ শত্রু জানে না এই কৌশলগত অচলাবস্থা থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবে। ইরান যথাক্রমে আমেরিকা ও ইসরাইল নামক ‘বড় ও ছোট শয়তানদের’ বিরুদ্ধে তার প্রতিরোধের পথ অব্যাহত রাখবে।”

তিনি মুসলিম সরকারগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তারা নবী মুহাম্মদের (সা.) শিক্ষা অনুযায়ী কাজ করছে না, যেখানে বলা হয়েছে, যদি তুমি কোনো মুসলমানের বিপদের ডাকে সাড়া না দাও, তবে তুমি মুসলমান নও। মুসলিম দেশগুলো ইরানকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে। এর কারণ হলো, ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি আমেরিকার ঘাঁটি এবং সেখানে থাকা তাদের সম্পদে হামলা চালিয়েছে।

একই সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোকে ইসলামি বিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার আহ্বান জানান লারিজানি। তিনি বলেন, ইসলামি উম্মাহর ঐক্য তার সব শক্তি দিয়ে সব দেশের নিরাপত্তা, শ্রেষ্ঠত্ব ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন