যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালানোর আগে চুপিসারে তেহরানকে আগাম সতর্ক করেছিল বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের কোনো ইচ্ছা নেই—এই বার্তাও দেওয়া হয়। টিআরটি ওয়ার্ল্ড এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকশ করেছে।
একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি রাজনৈতিক সূত্র আমওয়াজ মিডিয়াকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২১ জুন ওয়াশিংটন তেহরানকে জানায়, তারা পূর্ণমাত্রার সংঘাতে যেতে চায় না এবং কেবল ফোর্দো, ইসফাহান ও নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করবে।
এই তথ্য পাওয়ার পরপরই ইরানি কর্মকর্তারা দ্রুত এসব স্থাপনা থেকে সরিয়ে নেন কর্মীদের এবং দেশের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বেশিরভাগ মজুদ গোপন স্থানে সুরক্ষিতভাবে সরিয়ে ফেলেন বলে সূত্রটি জানায়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের কোনো পক্ষই এ প্রতিবেদন নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্যবিষয়ক সচিব জনাথন রেনল্ডস বলেন, হামলার আগে লন্ডনকে অবহিত করা হয়েছিল।
তিনটি বি-২ বোমারু বিমান ফোর্দোর ভূগর্ভস্থ সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় ছয়টি ১৩.৬ কেজি ওজনের বাংকার ধ্বংসকারী "Massive Ordnance Penetrator (MOP)" বোমা নিক্ষেপ করে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দুটি করে বোমা ফেলা হয় ফোর্দোর দুটি শক্তভাবে সুরক্ষিত প্রবেশপথে এবং অপর দুটি বোমা লক্ষ্য করে ফেলা হয় এর বায়ুচলাচলের শাফটে (ventilation shaft)।
অন্যদিকে, একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকে নাতাঞ্জ এবং বিস্তৃত ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর প্রায় ৩০টি টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে জানা গেছে।
এই দুটি সাইট আগেও ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

