গাজায় ইসরাইলের হামলা

গাজা সিটির দুর্ভিক্ষের নিন্দায় বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ

গাজা সিটির দুর্ভিক্ষের নিন্দায় বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ

গাজায় ইসরাইলের বর্বর আগ্রাসন ও ত্রাণ সহায়তা প্রবেশ বন্ধ করে ইচ্ছাকৃত যে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা হয়েছে, এর বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী বইছে নিন্দার ঝড়। ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ করার এবং অবিলম্বে অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন।

অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলের বোমা হামলায় কমপক্ষে ৬৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু ও ত্রাণপ্রার্থীও রয়েছেন। খাদ্য সংগ্রহের জন্য এভাবে মানুষকে গত্যা করা চরম মানবিক বিপর্যয়ের শামিল।

বিজ্ঞাপন

এবার গাজা সিটিকে পুরো দখলে নেওয়ার জন্য শুধু হামলাই নয়, সেখানে থাকা চিকিৎসাকর্মীদেরও বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে আইডিএফ। ইসরাইলের এমন পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। অধিকার গোষ্ঠীগুলোও সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই অভিযান শহর থেকে প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

এদিকে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সরবরাহসহ মানবিক সহায়তা প্রদানে ইসরাইলের বাধার কথা উল্লেখ করে উত্তর গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দুর্ভিক্ষ অবস্থা’ ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের এই ঘোষণার পর বিশ্বব্যাপী ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়ে ওঠে।

যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি এখনো বিস্ময়কর। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ইসরাইলি আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ৬২ হাজার ৬২২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক লাখ ৫৭ হাজার ৬৭৩ জন। এদিকে রোববার ভোর থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১৬ ফিলিস্তিনি। এর মধ্যে শিশু ও ত্রাণপ্রার্থীও আছেন।

প্রায় দুবছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ইসরাইলের বর্বরতার মাত্রা কমার বদলে দিন দিন বাড়ছে। একদিকে গাজার বেসামরিক জনগণ অবিরাম বোমাবর্ষণ, বাস্তুচ্যুতি ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন; অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিরতির আহ্বান ক্রমশ জোরালো হয়ে উঠছে।

এদিকে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে অস্ট্রেলিয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে হাজারো মানুষ। ওই সমাবেশের আয়োজন করেছে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপ’ নামের একটি সংস্থা। আয়োজকরা জানিয়েছেন,অস্ট্রেলিয়ার মধ্য-বামপন্থি সরকার ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর তেল আবিব ও ক্যানবেরার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। আর এর মধ্যেই রোববার অনুষ্ঠিত হলো ফিলিস্তিনিপন্থি সমাবেশ। রাজধানী সিডনি, ব্রিসবেন ও মেলবোর্নজুড়ে অন্তত ৪০টি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলটি জানিয়েছে, দেশব্যাপী প্রায় তিন লাখ ৫০ হাজার মানুষ সমাবেশে অংশ নিয়েছে। যার মধ্যে ব্রিসবেনে প্রায় ৫০ হাজার ফিলিস্তিপন্থি অংশ নেন। তবে সিডনি ও মেলবোর্নে কত লোক উপস্থিত ছিলেন, তার সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেনি পুলিশ।

অপরদিকে, গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বারবার বাধা প্রদান করেছে ইসরাইল। এ পর্যন্ত সাতবার চুক্তিতে বাধা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

স্থানীয় সময় শুক্রবার ইসরাইলের চ্যানেল ১৩-এর হা’মেকার নামে একটি অনুসন্ধানী অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে এই তথ্য। অনুষ্ঠানটিতে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় আমেরিকা ও ইসরাইলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের। ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবরুদ্ধ গাজার বিরুদ্ধে তাদের ধ্বংসাত্মক সামরিক অভিযানের প্রায় দুই বছরের মধ্যে নেতানিয়াহু সাতবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল করেছেন। এর জন্য নেতানিয়াহই প্রধানত দায়ী। তবে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরসহ রক্ষণশীল মন্ত্রীদের চাপও এর পেছনে কাজ করেছে।

গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের পক্ষে কথা বলার জন্য আমেরিকার ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের ফার্স্টলেডি এমিনে এরদোয়ান।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত ইউক্রেনীয় শিশুদের প্রতি আমেরিকার ফার্স্টলেডির সমর্থনের প্রশংসা করে এমিনে এরদোয়ান ট্রাম্পকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সেই একই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক চিঠিতে মিসেস এরদোয়ান বলেছেন, ‘গাজা শিশুদের কবরস্থান হয়ে উঠেছে। তাই এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কণ্ঠস্বর এবং শক্তি একত্রিত করতে হবে।’

সম্প্রতি জাতিসংঘ সমর্থিত খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গাজা সিটিতে দুর্ভিক্ষের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে পাঁচ লাখ মানুষ ও এক লাখ ৩২ হাজার শিশু। অপুষ্টির কারণে এসব শিশুর জীবন হুমকির মুখে রয়েছে। এসব তথ্য সামনে আসার পরই মেলানিয়া ট্রাম্পকে চিঠি লিখেছেন এমিন এরদোয়ান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন