নেতজারিম করিডোর থেকে সেনা প্রত্যাহার ইসরাইলের

নেতজারিম করিডোর থেকে সেনা প্রত্যাহার ইসরাইলের

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজাকে বিভক্ত করা নেতজারিম করিডোর থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে ইসরাইল। গত ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে নেতজারিম থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হলো।

এর মাধ্যমে উত্তর গাজা থেকে সম্পূর্ণ ইসরাইলি বাহিনীর উপস্থিতি প্রত্যাহার করা হলো। স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা যায়, নেতজারিম করিডোর সম্পূর্ণ খালি হয়ে গেছে। গত বছরের ২০ আগস্ট থেকে এটি ইসরাইলি বাহিনীর দখলে ছিল। মধ্য গাজায় তথাকথিত এ করিডোর স্থাপনের মাধ্যমে ইসরাইলি বাহিনী পুরো গাজাকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই অঞ্চলে ভাগ করেছিল।

বিজ্ঞাপন

নেতজারিম করিডোর থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিরা সহজেই গাজায় চলাচলের প্রত্যাশা করছেন।

এদিকে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেতজারিম করিডোর থেকে সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে ইসরাইল তাদের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে আরেকবার ব্যর্থতার প্রমাণ দিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনিদের ঘরে ফেরা এবং বন্দিবিনিময় সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে নেতানিয়াহুর এ ভূখণ্ডে বিজয় অর্জনের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে।

এতে বলা হয়, ‘গাজার জনগণ ও যোদ্ধাদের হাতে এ ভূখণ্ড সর্বদা স্বাধীন থাকবে এবং সব দখলদার আগ্রাসী ও বিদেশি বাহিনীর জন্য তা নিষিদ্ধ থাকবে।’

এদিকে গাজায় ফিলিস্তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার হলেও নেতজারিম করিডোর দিয়ে ফিলিস্তিনিদের চলাচল আগের মতোই থাকবে।

এতে বলা হয়, যখন রাস্তা খুলে দেওয়া হবে তখন আনুষ্ঠানিকভাবেই জানানো হবে। ফিলিস্তিনি নাগরিকরা যেন সতর্ক হয়ে পথ চলেন।

এর আগে শনিবার স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস তিন ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দেয়। এর বিপরীতে ১৮৩ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয় ইসরাইল।

তবে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিদের কোনো ধরনের উদযাপনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা এএফপিকে মুক্তিপ্রাপ্তদের স্বজনরা জানান, ইসরাইলি বাহিনী তাদের বাড়িতে এসে মুক্তি পাওয়াদের ফিরে আসা উপলক্ষে কোনো ধরনের উদযাপন না করার জন্য হুমকি দিচ্ছে।

শনিবার মুক্তি পাওয়া সাত ফিলিস্তিনিকে রামাল্লায় পৌঁছানোর পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার সংগঠন প্যালেস্টেনিয়ান প্রিজনারস ক্লাবের প্রধান আবদুল্লাহ আল-জাগারি এএফপিকে জানান, ‘গত কয়েক মাসে ইসরাইলি কারাগারে নির্মমতার শিকার মুক্তি পাওয়া সব বন্দিই সুচিকিৎসা ও স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা জরুরি। এদের মধ্যে সাতজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

গাজার যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময়ের মধ্যে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইলি বাহিনী। ‘অপারেশন আয়রন ওয়াল’ নামে ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অভিযানে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে হত্যাযজ্ঞ ও গ্রেপ্তার চালাচ্ছে ইসরাইলি সেনারা।

রোববার পশ্চিম তীরের তুলকারেম শহরের কাছে নুর শামস শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এক গর্ভবতী নারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় তার স্বামীও আহত হন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন