পাকিস্তানের অর্থনীতি যখন ডুবতে বসেছে, মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী, ঋণের বোঝা ক্রমাগত বাড়ছে এবং সাধারণ নাগরিকেরা চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ১৩ লাখ ডলারের (প্রায় ১৬ কোটি টাকা) একটি লবিং চুক্তি সই করেছে পাকিস্তান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির হাতে আসা নথিপত্র অনুযায়ী, গত ১ মে ওয়াশিংটনে পাকিস্তানি দূতাবাস 'আরউইন গ্রেভস স্ট্র্যাটেজি গ্রুপ এলএলসি'-এর সঙ্গে দুই বছর মেয়াদি এই চুক্তি সই করেছে। এই লবিং ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের ওপর বৃহত্তর প্রভাব খাটানো এবং দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক মার্কিন নীতিতে নিজেদের অবস্থান জোরালো করতে চায় ইসলামাবাদ।
চুক্তি অনুযায়ী, এই লবিং ফার্ম পাকিস্তানের পক্ষে মার্কিন কংগ্রেসের প্রধান কমিটি, প্রভাবশালী ককাস, নীতি বিশেষজ্ঞ এবং বিনিয়োগকারীদের লক্ষ্য করে কাজ করবে। ফার্মটি পাকিস্তানকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাস দমনে অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করার পাশাপাশি খনিজ খাত, আইটি, ফার্মাসিউটিক্যালস, কৃষি এবং অবকাঠামোতে মার্কিন বিনিয়োগের প্রচার চালাবে।
তবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নানামুখী সংকটের কারণে এই ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের কাজটিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে বেলুচিস্তানে গুম ও সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিকভাবে কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান।
ওয়াশিংটনভিত্তিক ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ সুরিন্দর জুরাহি বলেন, ‘গণতন্ত্র, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং সংখ্যালঘু অধিকারের বিষয়ে পাকিস্তানের ট্র্যাক রেকর্ড পশ্চিমা দেশগুলোর আইনপ্রণেতা ও থিংক ট্যাংকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। ফলে এই বিষয়গুলো প্রায়শই ইসলামাবাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দেয়।’
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বেলুচিস্তানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মুক্তচিন্তা প্রকাশে বাধা এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের বিষয়গুলো বারবার সামনে এনেছে। এছাড়া হিন্দু, খ্রিষ্টান ও আহমাদিয়াসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি পাকিস্তানের আচরণ আন্তর্জাতিক মহলে নিয়মিত সমালোচিত হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


